দর্শনা অফিস:
দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিস-বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের ৩ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন দর্শনা পৌর বিএনপির ৪ নং ওয়ার্ড সভাপতি হুমায়ুন (৪৫),থানা যুবদল নেতা রকিবুল ইসলাম ব্রাইট (৩৮) ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন (২৩)। তবে যুবদল নেতা সাগরকে (৪৫) আটক করে জিঞ্জাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দর্শনা রেল ইয়ার্ডে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারক রফিকুল ইসলামের অফিস ও বাসা বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা সহ আসবার পত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় তার অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও স্বাক্ষরিত দুটি ব্যাংক চেক নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় আসবারপত্র সহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। সহিংসতা এড়াতে দর্শনা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সম্প্রতি মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের আমদানি করা পাথরের চালানের কাজ পাওয়ার পর তাকে চাপ দেওয়া এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সম্প্রতি তাকে দুটি ডকুমেন্ট দিয়ে দর্শনা পোর্ট দিয়ে মাল খালাসের কাজ করার দায়িত্ব দেন। এ কাজে তিনি কোটেশন দেওয়ার পর সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে চাপ ও বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে তার দাবি। রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তার বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং তাকে ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে মোবাইল ফোন ও ফোনকলের মাধ্যমে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি ডিবি পুলিশ ও দর্শনা থানা পুলিশকে অবহিত করেছিলেন। হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এক রাতে তার অফিসে পুলিশ সদস্যরা পাহারায়ও ছিলেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার আগের রাতেও তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে আবারও টাকা না দিলে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক তার অফিসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের পাথরের চালানের পরিবহন ভাড়া পরিশোধের জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছিলেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা পরিশোধের পর তার অফিসে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকা পরিবহন ভাড়া পরিশোধের জন্য সঙ্গে নিয়ে নিচে নামার সময় হামলাকারীদের অফিসে প্রবেশ করতে দেখে তিনি প্রাণভয়ে টাকা ভর্তি ব্যাগটি ফেলে উপরে উঠে যান। রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় তার কক্ষে প্রবেশের জন্য দরজা ভাঙারও চেষ্টা করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর টাকা ভর্তি ব্যাগটি আর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যাগে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছাড়াও তার স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক ছিল। রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করে আইনগত প্রতিকার চান।
দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট বলেন, সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তাদের জড়িয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার বা তাদের কোনো লোকজন রফিকুল ইসলামের অফিসে গিয়ে ভাঙচুর করেনি। ব্যবসায়িক কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি শুনেছেন। তবে ভাঙচুর বা চাঁদাবাজির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রায়হান বলেন, রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাকে অকারণে এ ঘটনায় দোষারোপ করা হচ্ছে। কোনো লোকজন বা ছেলেপেলেকে দিয়ে তিনি রফিকুল ইসলামের অফিসে ভাঙচুর করাননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। হুমায়ূন, ব্রাইট ও অমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, দর্শনা রেলগেট এলাকার রিফাত আবাসিক হোটেলের মালিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের বাসা ও অফিসে চাঁদা দাবি করে একদল সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কিছু নাম পাওয়া গেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


