জীবননগর অফিস:
জীবননগরে একই দিনে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে দুজনের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। অপর দুজনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। একই দিনে মনোহরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জীবননগর থানা-পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকেই বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জীবননগর থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের একটি দল জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে পোস্ট অফিসপাড়ার শিউলি খাতুন (৩০), মহানগর উত্তরপাড়ার শামিম হোসেন (৩০), দৌলতগঞ্জের জামাল হোসেন (৪০) এবং চোরপুতা তেঁতুলিয়া এলাকার আক্তার হোসেনকে (৫৩) আটক করা হয়। অভিযানকালে শিউলি খাতুনের কাছ থেকে ১০ গ্রাম এবং শামিম হোসেনের কাছ থেকে ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আর জামাল হোসেন ও আক্তার হোসেনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে গাঁজা সেবনের আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আটকের পর চারজনকে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে হাজির করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ে শিউলি খাতুন ও শামিম হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে গাঁজা সেবনের দায়ে জামাল হোসেন ও আক্তার হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
এদিকে একই দিনে জীবননগর থানা-পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে মনোহরপুর গ্রাম থেকে নাদিম হোসেন (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার মনোহরপুর গ্রামে অভিযান চালায় জীবননগর থানার একটি দল। এ সময় গাঁজা সেবনের অভিযোগে নাদিম হোসেনকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে সামারি ট্রায়ালে গাঁজা সেবনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক নাদিম হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
জীবননগর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


