আলমডাঙ্গা অফিস:
আজ আলমডাঙ্গা গার্মেন্টস মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে গার্মেন্টস পট্টিজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা, প্রার্থীদের ব্যস্ততা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে সরব হয়ে উঠেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা গার্মেন্টস মালিক সমিতির মোট সদস্য ১৪৯ জন। এবারের নির্বাচনে ২৩ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাধ্যমে সমিতির ১৩ সদস্যের কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হবে। ইতিমধ্যে প্রতীকসহ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। তারা হলেন আব্দুল সামাদ বাবলু ও খন্দকার গোলাম আজম বিটু। আব্দুল সামাদ বাবলু ‘ছাতা’ প্রতীক এবং খন্দকার গোলাম আজম বিটু ‘চাকা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে সভাপতি পদে সরাসরি দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন তিনজনÑকামরুল হক রনি, হাবিবুর রহমান রুবেল ও সেলিম হোসেন। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল খালেক ও মেহেদী হাসান। সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, প্রচার সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদকসহ কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন পদেও একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ওই পদে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস পট্টি ও আশপাশের এলাকায় প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী চোখে পড়ছে। প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের পরিকল্পনা ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরছেন। ভোটারদের মন জয় করতে শেষ মুহূর্তেও চলছে নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা। এতে নির্বাচনী এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
সমিতির সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘ তিন বছর পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবারের নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের ফলাফল নিয়ে আগাম কোনো হিসাব মেলানো কঠিন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়েই নির্ধারিত হবে কারা সমিতির নেতৃত্বে আসছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন সিরাজুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে শনিবার নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে। মাত্র ১৪৯ ভোটারের এই নির্বাচনে ২৩ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় প্রতিটি ভোটই প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিনের। শনিবার বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনাতেই মিলবে কাক্সিক্ষত নেতৃত্বের চূড়ান্ত ফল।


