আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান:

‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে’




নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর হাসপাতাল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’র অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইনে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। এছাড়া বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। কেন্দ্রীয় উদ্বোধন শেষে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন। পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহারের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না। আমরা যদি নিয়মিতভাবে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখি, তাহলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকটাই ধ্বংস করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এটি আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িÑসব জায়গায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজের শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বাড়ি ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে। একজন সচেতন শিক্ষার্থী একটি পরিবার এবং একটি সমাজকে সচেতন করতে পারে।
অভিযানের সময় দোকানদার, পথচারী ও সাধারণ মানুষকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করা হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ বিশেষ কর্মসূচি চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিন মাসের এ কর্মসূচিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। কর্মসূচিতে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, সহকারী কমিশনার এ.এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রোভার স্কাউট, স্কাউট, বিএনসিসি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন বা ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি। তাই তিন মাসের এ কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে কুতুবপুর ও শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। এ সময় পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব জিয়াউর রহমান, মহিলা সদস্য রিনা খাতুন, সদস্য জামাত আলী, মহিলা সদস্য কল্পনা খাতুনসহ পরিষদের গ্রাম পুলিশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযানকালে পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। জনপ্রতিনিধি ও পরিষদের কর্মীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নালা-নর্দমা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। এদিকে একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদেও পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজন, সদস্য সুজন, মহিলা সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন করলেই হবে না; মশার বংশবিস্তার বন্ধ করতে হলে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেয়া হয়।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, ‘ডেঙ্গু নয়, প্রতিরোধই প্রধানÑসচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’ এবং ‘পরিষ্কার পরিবেশ, সুস্থ সমাজ, গড়বো আমরা’Ñএ স্লোগান সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনলাইনে যুক্ত হয়ে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দামুড়হুদায় স্থানীয়ভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামছুজোহা পলাশ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। উদ্বোধন শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জঙ্গল ও আবর্জনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা হয়। কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার না করতে পারে, সে বিষয়েও নজর দেয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু অভিযান চালিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস নয়, ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত থাকতে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, নির্মাণসামগ্রীর পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সবার সম্মিলিত সচেতনতা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশই পারে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে। এ অভিযান সফল করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গার জীবননগরেও শুরু হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। আগামী তিন মাস এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। এ উপলক্ষে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু শুধু একটি নির্দিষ্ট মৌসুমের সমস্যা নয়; মশার বংশবিস্তার রোধে সারা বছরই বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। বিশেষ করে যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নালা-নর্দমা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে। ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেকার রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি জনসম্পৃক্ত রূপ পায়। উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলাকায় একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দেন। পরে বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী তিন মাস এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। এ সময় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬। সারাদেশের সঙ্গে একযোগে গতকাল শনিবার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার একযোগে সারাদেশে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। পরে র‌্যালি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনূর আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন।
তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ, আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন বা স্থানীয় সরকারের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ রোগের বিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র, টব কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। কারণ, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে। বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম। অভিযান চলাকালে কয়েক দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কোথাও পানি জমে থাকলে তা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমীন আক্তার, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক সাব্বির আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিএনসিসি দলের সদস্য এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অভিযানকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। সচেতনতামূলক র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরেন। এ সময় জনসাধারণকে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের সচেতন অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাসের এ কর্মসূচিকে শুধু একটি সরকারি অভিযান হিসেবে না দেখে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ি’Ñএ প্রত্যয়ে তিন মাসব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে আলমডাঙ্গার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এ সরাসরি সংযুক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করেছে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও মেহেরপুর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা, জনসচেতনতামূলক র‌্যালি এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ভিডিও কনফারেন্স শেষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা পুলিশ, পৌরসভার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার, স্কাউট সদস্য, শিক্ষার্থীবৃন্দসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া রোডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসন ও মেহেরপুর পৌরসভার যৌথ পরিচালনায় এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সড়কের দুই পাশের জমাকৃত ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেন অপসারণ করা হয় এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করে কেরোসিন ও লার্ভিসাইড স্প্রে করা হয়।
অভিযান শেষে আলোচনা সভায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী বলেন, আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী উদ্যোগে সারাদেশে একযোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শুরু হয়েছে। ডেঙ্গু কেবল চিকিৎসাজনিত সমস্যা নয়, এটি একটি পরিবেশগত ও সচেতনতার বিষয়। আমাদের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই। তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে যেন এডিস মশার বংশবৃদ্ধি না ঘটে। মেহেরপুরকে মশামুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এই অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচিতে মেহেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় সমাজসেবীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পার্থ প্রতিম শীল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক, সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বাবুল সূত্রধর, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন ছাতু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিন্টু আলী, জেলা জাসদ দলের আহ্বায়ক একে বাকা বিল্লাহ, দিপু খান সহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাগণ, শিক্ষার্থীরা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ