কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরি গ্রামে রাতের আঁধারে অস্ত্রের মুখে একটি পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। এ সময় নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কালিয়াবকরি গ্রামের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা গোলাম হোসেনের (৫৫) বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গোলাম হোসেন ওই গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র দল গোলাম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে ডাকাতেরা। একপর্যায়ে তাদের হাত-পা বেঁধে ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি শুরু করে তারা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা বাড়িতে অবস্থান করে। এ সময় তারা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে ডাকাতেরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বাঁধন খুলে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। তবে ডাকাতির এ ঘটনায় একটি ব্যতিক্রমী ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের এক বৃদ্ধার কানের দুল নিয়ে যাওয়ার পর সেটি আবার ফিরিয়ে দিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। কেন তারা দুলটি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
গোলাম হোসেন ও তার স্ত্রী বলেন, ডাকাতেরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তাদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এলাকায় এ ধরনের ডাকাতির ঘটনা তারা দেখেননি। হঠাৎ গভীর রাতে অস্ত্রধারী একটি দল বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালানোর ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ বলেন, বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এটি সঠিক। ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে অভিযোগ করলে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনায় কালিয়াবকরি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।


