আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগঝিনাইদহে ৬ মাস ধরে কাদায় বেঁধে রাখা হতো মহিষগুলো; অবশেষে উদ্ধার

ঝিনাইদহে ৬ মাস ধরে কাদায় বেঁধে রাখা হতো মহিষগুলো; অবশেষে উদ্ধার




ঝিনাইদহ অফিস:

ঝিনাইদহের মহেশপুরে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বেঁধে রাখা চারটি মহিষ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অবলা প্রাণীগুলোর দুর্দশার চিত্র নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গতকাল সোমবার মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনো ও নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়।
জানা গেছে, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন ধরে চারটি মহিষকে বুকসমান কাদাপানির মধ্যে বেঁধে রাখতেন। সেখানেই তাদের খাবার ও পানি দেয়া হতো। দিনের পর দিন কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হওয়া মহিষগুলোর দুরবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। রবিবার মহিষগুলোর দুর্দশার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে। এরপর তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে কাদা থেকে উদ্ধার করে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর শারীরিক অবস্থাও দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা একাধিকবার মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনো জায়গায় রাখার অনুরোধ করলেও মালিক আব্দুল আলীম তাতে কর্ণপাত করেননি।
এদিকে আব্দুল আলীমের বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন বলেন, ছেলেকে অনেকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো জায়গায় রাখতে। বাড়ির সবাইও তাকে একই কথা বলত। কিন্তু সে কারো কথা শুনত না। মহিষগুলোকে ওই কাদাপানির মধ্যেই বেঁধে রাখত এবং সেখানেই খাবার দিত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহিষগুলোকে শুকনো জায়গায় রাখার কথা বললে আব্দুল আলীম পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হতেন এবং বকাঝকা করতেন।
স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো তাদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক। মহিষগুলো উদ্ধারের পর উপজেলা প্রশাসন মালিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মহিষগুলো উদ্ধার করে শুকনো জায়গায় রাখা হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনো মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছয় মাসের দুর্বিষহ বন্দিদশা পেরিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে কাদামুক্ত হলো চারটি মহিষ। এখন তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ