দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নারীদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে ৪০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তায় পাওয়া এসব সেলাই মেশিন নারীদের ঘরে বসে আয় করার সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল শনিবার বিকেল তিনটায় দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) উপজেলা উন্নয়ন সহায়তার চতুর্থ কিস্তির অতিরিক্ত বরাদ্দের আওতায় এসব সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা শুধু পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নই করবেন না, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসে আয়-রোজগারের সুযোগ পাবেন এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন। তিনি বলেন, মানুষের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। কারও কাছে সামান্য প্রয়োজন মেটানোও কঠিন, আবার অনেকের জীবনে অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার প্রাচুর্য রয়েছে। তাই ভালো থাকার জন্য প্রত্যেককে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের উদ্দেশে রুহুল আমিন বলেন, সরকার আপনাদের জন্য আমার মাধ্যমে ৪০টি সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছে। আমার একটি চাওয়া আছেÑআপনারা আরও ৪০ জন নারীকে সেলাইয়ের কাজ শিখিয়ে দেবেন। তিনি বলেন, একজন নারী শুধু নিজে স্বাবলম্বী হলেই হবে না, তার মাধ্যমে আরও কয়েকজন নারী দক্ষ হয়ে উঠলে এর সুফল একটি পরিবার থেকে সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে সরকারি বা অন্য কোনো উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণের সুযোগ তৈরি হলে প্রশিক্ষিত নারীরা তখন আরও বেশি মানুষকে কাজে যুক্ত করতে পারবেন। সংসদ সদস্য বলেন, জীবনে অর্থ ও সামর্থ্যÑদুটিই মানুষের জন্য পরীক্ষা। কারও বেশি অর্থ আছে, কারও কম। তবে প্রত্যেকেরই নিজের অবস্থান থেকে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে চাই। সবাই মিলে দেশকে ভালোবাসতে চাই এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি সেলাই মেশিন শুধু একজন নারীর হাতে একটি যন্ত্র তুলে দেয় না, বরং তার জন্য বাড়িতে বসে আয়ের একটি পথও তৈরি করে। এর মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নায়েব আলী, বিএনপির দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নির্বাচিত নারী উপকারভোগীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেয়া হয়। আয়োজকদের আশা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে এসব নারী নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।


