আলমডাঙ্গা অফিস:
কারও হাতে এখন নতুন পাখিভ্যানের হ্যান্ডেল, কারও জীবিকার নতুন অবলম্বন ছাগল, আবার কারও সামনে সাজানো মুদি দোকানের পণ্য। এতদিন যাদের জীবিকার সঙ্গে মানুষের কাছে হাত পাতার সম্পর্ক ছিল, তাদের সামনে এবার খুলেছে নিজের শ্রমে আয় করার নতুন পথ। আলমডাঙ্গায় ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনজন ভিক্ষুক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের হাতে বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় তাদের মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ টাকা মূল্যের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের উপকরণ দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদি। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা কার্যালয়ের সুপারভাইজার শামীমা নাসরিন, ইউনিয়ন সমাজকর্মী খোদা বক্স, হাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, রুমা খাতুনসহ সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রীরামপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর হাতে তুলে দেয়া হয় ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি নতুন পাখিভ্যান। এতদিন মানুষের কাছে হাত পেতে জীবিকা চালানো শাহজাহানের সামনে এখন নিজের শ্রমে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাখিভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন আয় করে ধীরে ধীরে জীবনের চাকা ঘোরানোর প্রত্যাশা তার।
বাড়াদী ইউনিয়নের অনুপনগর গ্রামের খোলেনা খাতুন পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল। ছাগল পালন করে ধীরে ধীরে সংসারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে এমন একটি কর্মসংস্থান, যা বাড়িতে থেকেই পরিচালনা করা সম্ভব। অন্যদিকে জেহালা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিনকে দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মুদি দোকানের মালামাল। ছোট পরিসরে দোকান পরিচালনার মাধ্যমে আয় করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান তিনি। তিনজনের জন্য সহায়তার ধরনও আলাদা। কারও জন্য দেয়া হয়েছে চলমান জীবিকার উপকরণ, কারও জন্য পশুপালনের সুযোগ, আবার কারও জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সামগ্রী। অর্থাৎ একই ধরনের সহায়তা না দিয়ে তাদের সম্ভাব্য কর্মসংস্থান ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় রেখে উপকরণ বেছে নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মানুষকে বের করে আনতে শুধু এককালীন আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। একজন মানুষ নিজের শ্রমে আয় করতে পারলে তার আত্মমর্যাদা যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবারের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সরকারের ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র লক্ষ্যও ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে মানুষকে আয়মুখী কাজে যুক্ত করা। তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে উপকারভোগীরা দেয়া উপকরণ কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারছেন এবং পরবর্তী সময়ে তাদের পাশে কী ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে, তার ওপর।
আলমডাঙ্গার তিনজনের হাতে তুলে দেয়া কর্মসংস্থানের উপকরণের আর্থিক মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ টাকা। তবে উপকারভোগীদের কাছে এর মূল্য শুধু টাকার অঙ্কে মাপার নয়। একটি পাখিভ্যান, ছাগল কিংবা একটি মুদি দোকানের পণ্য তাদের জন্য মানুষের কাছে হাত পাতার জীবন থেকে নিজের শ্রমে উপার্জনের জীবনে ফেরার সম্ভাব্য সেতু।


