আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰আলমডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত📰দর্শনা পারকৃষ্ণপুরে ফার্মেসিতে দুই বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ📰দর্শনায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ, আহত চালক-সহকারী📰চুয়াডাঙ্গায়  ৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, তিন চালককে জরিমানা📰দামুড়হুদায় হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি যুবক হাসান গ্রেফতার 📰মাদক মামলায় চুয়াডাঙ্গা কানাপুকুর পাড়ার জালালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত
হোম পেজআইন আদালতচুয়াডাঙ্গায়  ৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, তিন চালককে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গায়  ৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, তিন চালককে জরিমানা




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গায় নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে শব্দদূষণের দায়ে তিনটি যানবাহনের চালককে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে যানবাহন থেকে ছয়টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘোড়ামারা সেতু এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৬(২) বিধি অমান্য করে যানবাহনে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ অপরাধে তিনটি গাড়ির চালককে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় যানবাহনে সংযুক্ত ছয়টি হাইড্রোলিক হর্ন খুলে জব্দ করা হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক নাইম হোসেন প্রসিকিউশন প্রদান করেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে সহযোগিতা করেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যানবাহনে উচ্চ শব্দের হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার জনদুর্ভোগ বাড়ায়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিষিদ্ধ হর্নের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চুয়াডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নির্ভুলতার নির্দেশ ডিসি লুৎফুন নাহারের
গণশুনানিতে দুই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ইশতেহার ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। একই দিন সাপ্তাহিক গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা ও অভিযোগ শোনার পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থীর শিক্ষাসামগ্রী ও পোশাকের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার শহর সমাজসেবা কার্যালয় চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
প্রশিক্ষণে জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পরিবার যেন ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, আবার অনুপযুক্ত কেউ যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন, সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীরাই এ কর্মসূচির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাই প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারের এ উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র। শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তিগত কৌশলগুলো আরও নিখুঁত করতে আজ বৃহস্পতিবারও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন পরিচালিত হবে।
এদিকে একই দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাপ্তাহিক গণশুনানি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরার সুযোগ পান। গণশুনানিতে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা, পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা, বিভিন্ন অভিযোগ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহনসহ নানা বিষয়ে সহায়তা চেয়ে মানুষ উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীদের বই কেনা ও স্কুল-কলেজের পোশাক তৈরির মতো প্রয়োজনেও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। গতকালের গণশুনানিতে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বই কেনার জন্য সহায়তা চান। একই কলেজের আরেক শিক্ষার্থী কলেজের পোশাক তৈরি করে দেয়ার জন্য সহযোগিতা চান। তাদের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক দুজনের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। একজনের বই কেনা এবং অন্যজনের কলেজের পোশাক তৈরি করে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের অন্যতম মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে তাদের সমস্যা সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারেন এবং যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান পান সে লক্ষ্যেই নিয়মিত গণশুনানি করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ