আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজঅর্থনীতিদর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে আমদানির সাথে কমছে রাজস্ব আহরণ

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে আমদানির সাথে কমছে রাজস্ব আহরণ




বিশেষ প্রতিবেদক:

দিন দিন আমদানি কমে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে কমে যাচ্ছে রাজস্ব আহরণের হার। গত দুই বছরের ব্যবধানে এ রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজস্ব কমেছে প্রায় ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। শুধু দর্শনা নয় জাতীয় পর্যায়েও বদলে গেছে বাণিজ্যের হিসাব নিকাশ। ১৬ বছর পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারির অবস্থান হারিয়েছে ভারত। সে জায়গা দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে কোলাহল আর কর্মব্যস্ততা নেই দর্শনা রেলইয়ার্ডে। এখানে অল্প পরিসরে পণ্য আসলেও তা অন্যত্র খালাস হচ্ছে। ফ্লাইএ্যাশ ও সয়াবিনের ভূষি মাঝে মাঝে ভারত থেকে দেশে আসে। ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
দর্শনার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারত থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে মালবাহী ওয়াগনে করে পণ্য আমাদনি করেন ব্যবসায়ীরা। দেশের শুধুমাত্র এ পথ দিয়েই দ্রুত সময়ে পণ্য আমদানি ও খালাসের পর নির্দিষ্ট স্থানে চাহিদা মত সরবরাহ সম্ভব। নানা সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে তাদের চাহিদা মত পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। কিছু ব্যবসায়ী সামান্য পণ্য আমদানি করলেও তা অন্যত্র খালাস হচ্ছে। রেলইয়ার্ড এলাকায় শুনশান নিরবতা নেমে এসেছে। তারা বলেন, রেলইয়ার্ডে সিএন্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী, চালকরা অলস সময় পার করছেন। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা ইয়ার্ড ছেড়েছেন। আমদানি না হওয়ায় কাজ একদম কমে আসায় বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে অফিস গুলো। ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারত থেকে মালবাহি ওয়াগনে করে একসময় ভূট্টা, পাথর, পেয়াজ , চাইনা ক্লে, ফ্লাই এ্যাশ, জিপসামসহ বিভিন্ন পণ্য আমাদনি হতো । এখন ভারত থেকে আসছে শুধুমাত্র ফ্লাই এ্যাশ ও সয়াবিন ভূষি। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৩ হাজার ৩১৫ ওয়াগনে ৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। যাতে রাজস্ব আয় হয় ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৪ হাজার ৪৮৬ ওয়াগনে করে ২ লাখ ৫২ হাজার ১০১ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। যা থেকে রাজস্ব আয় হয় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৯ হাজার ৭৪৯ ওয়াগনে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। যা থেকে রাজস্ব আয় হয় ২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ হিসেবে গত দুই বছরের ব্যবধানে এ রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজস্ব কমেছে প্রায় ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। শুধু দর্শনা নয় জাতীয় পর্যায়ের চিত্র একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজস্ব বোর্ডের হিসেবে গত অর্থবছরে ভারতের সাথে বাংলাদেশের আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। আর রফতানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। আর বড় ব্যবধানে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে চীন।
দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আওয়াল হোসেন বলেন, দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন এবং শুল্ক স্টেশন। এখান থেকে বিগত সরকারের আমলে প্রচুর পরিমানে মালামাল আমদানি করা হতো। হঠাৎ দেশে একটি বিশৃঙ্খলার কারণে পরবর্তীতে যে আন্দোলন হল তার ফলে মালামাল আসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। যখন এই রেলস্টেশন দিয়ে নিয়মিত মালামাল আসতো তখন এটি ছিল খুব জমজমাট ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। সরকারও এখান থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় করতো। দুদেশের সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে আবারো এই শুল্ক স্টেশন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আমরা মনে করি।
দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র সিএন্ডএফ এজেন্ট আতিয়ার রহমান হাবু জানান, আমাদের দর্শনা এলাকা বেশীর ভাগই ছিল পোল্ট্রি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে পোল্ট্রি ফিডসহ অন্যান্য মালামাল ব্রাজিল থেকে জাহাজের মাধ্যমে আসার কারণে এবং ভারতসহ আন্তজার্তিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি থাকার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সেভাবে মালামাল এদিক দিয়ে আসেনি। তবে বর্তমানে যেভাবে আসতে শুরু করেছে এবং সামনে গমসহ অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য আসতে পারে, সেক্ষেত্রে আমাদের রেভিনিউ বাড়বে নিশ্চিত।
দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) নাজমা ইয়াসমিন বলেন, দর্শনা আমাদের আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন এবং রাজস্ব আদায়ের একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দর্শনা রুট দিয়ে ফ্লাইএ্যাশ, ডিসেন্ট স্টোন চিপস, ডিওসি এবং অন্যান্য মালামালসহ ২ লাখ ৫২ হাজার ১০৪ মেট্রিক টন পণ্য এসেছে এবং ২০২৫-২৬ এ তা দাড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন। এ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে আর্নিং করেছে ১১ কোটি ৪০ লাখ ৭ হাজার ৯৭৮ টাকা। ২০২৫-২৬ সালে আমরা আর্নিং করেছি ৮ কোটি ২৮ লাখ ৬৭২ টাকা। গত অর্থ বছরের তুলনায় ২৫-২৬ অর্থ বছরে কিছুটা আর্নিং কমেছে। আমরা আশা করছি মালগাড়ীগুলো যদি আগের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পায়, পণ্যগুলো আসা শুরু করে তাহলে ২৬-২৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় আরো বৃদ্ধি পাবে।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে শুল্ক স্টেশনে আমদানি বাড়লে কমবে আমদানি ব্যয় ও সময়। কর্মসংস্থান ফিরে পাবে শ্রমিকরা। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আহরণের হার। এজন্য সংশ্লিষ্ট জনদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা করেছেন এ জেলার মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ