নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদক বিক্রির অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় আশাদুল হক মিন্টু (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) সত্যব্রত শিকদার ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (১) টেবিলে ১(খ) এবং ২ (খ) ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আশাদুল হক মিন্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় চুনুরীপাড়া এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ মাদকবিরোধী অভিযানে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মিন্টুকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ বেলা একটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাসান চত্বরে অবস্থান করছিল ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দৌলতদিয়াড় গ্রামের ব্রিজের নিচে একজন ব্যক্তি হেরোইন ও প্যাথিডিন ইনজেকশন বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে তাদের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল দৌলাতদিয়াড় ব্রিজের নিচে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিন্টু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, মিন্টুর পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি সাদা পলিথিনে মোড়ানো হেরোইনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেটে ৫০ গ্রাম, আরেকটিতে ৪৮ গ্রাম এবং অন্যটিতে ৩৭ গ্রাম হেরোইন ছিল। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের মোট পরিমাণ ছিল ১৩৫ গ্রাম। এ ছাড়া তার বাম পকেট থেকে ১৮টি প্যাথিডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জব্দতালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং প্যাথিডিন ইনজেকশনের মূল্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। পরে উদ্ধার হওয়া মাদকসহ মিন্টুকে থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ সময়ে মামলার বিচারকাজ চলার পর রাষ্ট্রপক্ষের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালতের দেয়া সাজা অনুযায়ী, মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি হলো।
মামলায় রাস্ট্রপক্ষের কৌসুলী এপিপি মানাজার আলী জোয়ার্দ্দার জানান, দীর্ঘ এক দশকের বেশী সময় ধরে চলা মামলায় আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে খুশি। অপরদিকে আসামীপক্ষের কৌসুলী ছিলেন ফজলে রাব্বী সাগর। তিনি বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।


