দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দলকা-লক্ষ্মীপুর বিলে হঠাৎ ব্যাপক হারে মাছ মরতে শুরু করেছে। গত তিন থেকে চার দিন ধরে বিলের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানির ওপর ভেসে উঠছে ছোট-বড় অসংখ্য মরা মাছ। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও মাছ চাষিরা। মরা মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় বিলপাড়ের মানুষেরও দুর্ভোগ বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের পানির ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য মরা মাছ। পুঁটি, টেংরা, শিং, টাকি, খলিশাসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের পাশাপাশি এক থেকে দুই কেজি ওজনের সিলভার কার্প, ব্রিগেড কার্প, রুই ও কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির চাষের মাছও মরে ভেসে রয়েছে। এ সময় বিলের পানির রং কিছুটা কালচে দেখা যায়। স্থানীয় মৎস্যজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, প্রতিদিন সকালে বিলের ধারে এসে দেখি মাছ মরে ভেসে আছে। এই বিল থেকেই আমাদের সংসার চলে। এখন মাছ মরে গেলে আমাদের পথে বসার উপক্রম হবে। মৎস্য চাষি ও নতিপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, তাদের প্রকল্পে লাখ লাখ টাকার মাছ ছিল। গত দুই থেকে চার দিন ধরে বিলের প্রায় সব জায়গায় মাছ মরে ভেসে উঠছে। তিনি বলেন, কেউ বিষ দিয়েছে কি না, নাকি পাট জাগ দেয়ার কারণে মাছ মারা যাচ্ছে, বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের এই প্রজেক্টে গত দুই-চার দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, অতিরিক্ত গরমে বিলের পানি উত্তপ্ত হয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়া, পানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং আশপাশে পাট জাগ দেয়ার কারণে পানিতে পচন ও দূষণ সৃষ্টি হয়ে মাছ মারা যেতে পারে। এ ছাড়া আশপাশের কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক এবং বৃষ্টির পানি কিংবা কৃষিজমি থেকে নেমে আসা দূষিত পানি বিলে প্রবেশ করেও মাছ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে মাছের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার বলেন, আশপাশের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার, পাট পচানোর পানি ও দূষিত পানি বিলে প্রবেশ এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে মাছের বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মাছের শরীরে ক্ষত ও কানকো পচা রোগ দেখা দিলে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, মাছের রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত লবণ ও চুন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


