আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজঅর্থনীতি উৎপাদনমুখী সরকারি কারখানার চাকা সচল রাখাই সরকারের লক্ষ্য: শামছুজ্জামান সুরুজ

 উৎপাদনমুখী সরকারি কারখানার চাকা সচল রাখাই সরকারের লক্ষ্য: শামছুজ্জামান সুরুজ




দর্শনা অফিস:

দীর্ঘদিনের লোকসান, উৎপাদন বন্ধ ও নানা সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্পকে ঘুরে দাঁড় করাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকলসহ উৎপাদনমুখী সরকারি কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে চিনিশিল্পকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিনিকল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামছুজ্জামান সুরুজ।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, উৎপাদনমুখী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো ধাপে ধাপে চালুর মাধ্যমে চিনি উৎপাদন বাড়ানো এবং এ খাতকে লাভজনক ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের প্রতিটি কারখানার চাকা সচল রাখা। শামছুজ্জামান সুরুজ জানান, বন্ধ কারখানা চালু করলেই সংকটের সমাধান হবে না। উৎপাদনব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যন্ত্রপাতি যুক্ত করার পাশাপাশি কারখানার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও কর্মীদের দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান জানান, দেশের ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের মধ্যে শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর এই ছয়টি চিনিকলের উৎপাদন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারখানা বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি আখচাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্ধ চিনিকলগুলোকে শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, একটি চিনিকলের সঙ্গে আখচাষি, শ্রমিক-কর্মচারী, পরিবহনশ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় অর্থনীতির বহু মানুষ জড়িত। তিনি বলেন, বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, আখচাষ বাড়বে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ছয়টি সরকারি চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি আগেও বিএসএফআইসির সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
চিনিশিল্পের পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে আখচাষিদের স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আখচাষিদের জন্য প্রণোদনার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফআইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, চাষিদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আখচাষিদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই চাষির মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো পাওনা টাকার জন্য একাধিক দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন হচ্ছে না। এছাড়া সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে চাষিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও চাষাবাদসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে আবহাওয়া ও কৃষি পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে আখচাষের সিদ্ধান্ত নিতে চাষিরা আরও সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি চিনিকলগুলোকে ভবিষ্যতে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান শামছুজ্জামান সুরুজ। তিনি বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; উৎপাদনব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। চিনিশিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা গেলে আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন যন্ত্রপাতি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা যুক্ত করার পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। এতে দীর্ঘদিনের লোকসানের বোঝা কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোকে ধীরে ধীরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএফআইসির সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অডিট) আব্দুল ওয়াহেদ, বিএসএফআইসির পরিচালক (অর্থ) আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বাণিজ্যিক অডিট) মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার এবং খুলনা উপপরিচালক (বাণিজ্যিক অডিট) নাসিফ কবির। এ সময় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমজীবী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও আখচাষি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যিক খামারের ইনচার্জ সুমন কুমার সাহা, ডিহি খামারের ইনচার্জ ইমদাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ