নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন করে ‘ইসলামী সমাজ’’র আমির সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মানব রচিত ব্যবস্থা এবং আল-কোরআন বিরোধী সংবিধানই মানবজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা। তার দাবি, এই সমস্যার সমাধান না হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্য কোনো সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়। গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক সমস্যাসমূহ এবং তা সমাধানের উপায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইসলামী সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হলেও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে প্রণীত সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রে বহাল রয়েছে। কোনো সরকারই আল-কোরআনকে সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করে কোরআনের আইন-বিধান অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেনি। তার মতে, এ কারণেই দিন দিন বিভিন্ন সমস্যা বেড়ে চলেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র এবং এর ভিত্তিতে প্রণীত সংবিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে বহাল রেখে যতই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হোক, তাতে প্রকৃত সমাধান হবে না। বরং সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী সমাজের আমির বলেন, তাদের দৃষ্টিতে আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র পরিপূর্ণ ও কল্যাণকর ব্যবস্থা হলো ইসলাম। এই ব্যবস্থার মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সব ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন-কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনি দাবি করেন, এই নীতির ভিত্তিতে জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনা করা হলে মানুষের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি এবং পরকালে মুক্তি অর্জন সম্ভব। সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আল-কোরআনবিরোধী সংবিধান পরিবর্তন করে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল-কোরআনকে সংবিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র পথ। তার দাবি, এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, আল-কোরআন ও সুন্নাহ্সম্মত পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইসলামী সমাজ’ কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আলমডাঙ্গায় সংগঠনের একটি জনসমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ইসলামী সমাজের আমির।
তিনি বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটায় আলমডাঙ্গা উপজেলা চত্বরের এরশাদ মঞ্চে জনসমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য প্রশাসনের কাছে নিয়ম অনুযায়ী অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন সমাবেশের অনুমতি দেননি এবং কর্মসূচি বন্ধ রাখার জন্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেনÑএ প্রশ্ন তোলেন তিনি। সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ইসলামী সমাজের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘ইসলামী সমাজ’ খুলনা বিভাগীয় অঞ্চল-২’র দায়িত্বশীল আসাদুজ্জামান বুলবুল সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন খুলনা বিভাগীয় অঞ্চল-১-এর সহকারী দায়িত্বশীল আবু শামাহ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় অঞ্চল-১-এর দায়িত্বশীল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের সহ-দায়িত্বশীল আবু শামাহ, খুলনা বিভাগীয় অঞ্চল-২’র দায়িত্বশীল আসাদুজ্জামান বুলবুল, চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্বশীল আলমগীর কবীর বাবু, কুষ্টিয়া জেলার দায়িত্বশীল আনছার আলম এবং আলমডাঙ্গা থানার দায়িত্বশীল মাশরাফিবিন মানিক।


