নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর ডিসি ইকো পার্ক এলাকায় একটি খেলার মাঠ স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশু-কিশোরেরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত মাঠের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই পার্কের বাইরে উপযুক্ত স্থানে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল রবিবার বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড় এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, শিবনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু এলাকাটি ডিসি ইকো পার্ক হিসেবে ঘোষণার পর সেখানে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগও। এতে এলাকার নতুন প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেন। এর আগে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোর থাকায় জেলা প্রশাসক তাদের নিজ কার্যালয়ে ডাকেন। পরিবারের অনুমতি ছাড়া তারা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন কী-না, তা জানতে তাদের নাম ও অভিভাবকদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর কথাকাটাকাটিও হয়। পরে জেলা প্রশাসক তাদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন।
জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, ডিসি ইকো পার্কের অভ্যন্তরে কোনো খেলার মাঠ করা হবে না। পাশাপাশি পার্কের ভেতরে খেলাধুলার উদ্দেশ্যে কাউকে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেন। পরে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পার্কের বাইরে অন্যত্র জমি পাওয়া গেলে সেখানে মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ সময় তিনি দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অ্যাসিল্যান্ডকে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে ইকো পার্কের বাইরে উপযুক্ত জায়গা খোঁজার কথা বলেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে আন্দোলনকারীরা জেলা পরিষদে যান। সেখানে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।
আন্দোলনকারীদের দেয়া স্মারকলিপিতে শিবনগর এলাকার ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতের নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নরেন্দ্র পাল চৌধুরী ১৮৯৫ সালে শিবনগর মৌজার প্রায় ৪০০ শত বিঘা জমিতে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফলদ গাছের সমন্বয়ে একটি বিশাল বাগান গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে ওই এলাকা হর্টিকালচার ফার্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শিবনগর এলাকার মানুষ সেখানে খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকার এলাকাটিকে ‘ডিসি ইকো পার্ক’ ঘোষণা করে। এরপর পার্কটিকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় সেখানে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনও। ফলে শিবনগরসহ আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিয়মিত খেলাধুলার জন্য একটি মাঠের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে ডিসি ইকো পার্কের সুরক্ষা বজায় রেখেই পার্কের বাইরে বা উপযুক্ত কোনো সরকারি জায়গায় একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণ করা যেতে পারে। এতে এলাকার শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে এবং তারা খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকেও দূরে থাকবে।
মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মজিবর রহমান, ইউপি সদস্য সাজিবর রহমান, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ কাবা, মোহাম্মদ শফিক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


