নিজস্ব প্রতিবেদক:
পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ও গার্ড অব অনার না দেয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা। কর্মসূচি থেকে ভবিষ্যতে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে যেন এমন আচরণ না করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যারা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রেখেছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না পাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে।
মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবেছ উদ্দিন বলেন, পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মীর বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে যথাযথ সম্মান ও গার্ড অব অনার দেয়া হলো না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। আবেছ উদ্দিন আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে তারা এ মানববন্ধন করছেন। ভবিষ্যতে যেন কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে অসম্মানিত হতে না হয়, সে জন্য সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গা জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদ হাসান চত্বরে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আব্দুল হান্নান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসনাত, সদস্য চান আলীসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধারা।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, পিরোজপুরে নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়া এবং তার প্রতি অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগে মেহেরপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মেহেরপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আজ সোমাবর এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মেহেরপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, সদস্য সচিব আব্দুর রশিদ, জেলা ডেপুটি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, পৌর কমান্ডার জামিল উদ্দিন ও সদর থানা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা কমান্ডার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান আলী খান, গাংনী উপজেলা কমান্ডার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, পিরোজপুর ইউনিয়ন কমান্ডার ইদ্রিস আলী, থানা সদস্য চাঁদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রায়হানুল কবির এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ড মুজিবনগর শাখার সভাপতি মোখলেছুর রহমানসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অসম্মান করার যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।


