আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজবিনোদনশ্রীলঙ্কার প্রতিবাদী গানের কিংবদন্তি নন্দ মালিনী মারা গেছেন

শ্রীলঙ্কার প্রতিবাদী গানের কিংবদন্তি নন্দ মালিনী মারা গেছেন




বিনোদন ডেস্কঃ
শ্রীলঙ্কার প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নন্দ মালিনী মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা অস্থিরতার সময়ে তার গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তার গান মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
নিজের বাড়ি নাওয়ালায় মারা যান নন্দ মালিনী। তার ৮৩তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হলো।
১৯৪৩ সালের ২৩ আগস্ট শ্রীলঙ্কার কালুতারার একটি গ্রামে জন্ম নন্দ মালিনীর। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। রাজধানী কলম্বোয় পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে কলম্বোয় একটি কবিতা আবৃত্তি ও গান প্রতিযোগিতায় জয়ী হন মালিনী।
এটিকেই তার সংগীতজীবনের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। পরে ধীরে ধীরে তিনি শ্রীলঙ্কার সিংহলি সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে গান গেয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। তার কিছু গানে দুর্নীতি ও সামাজিক অনিয়মের সমালোচনা করা হয়। আবার কিছু গানে জাতি ও ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাযড়ানোর বার্তাও ছিল তার অনেক গানে। সে সময় শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বামপন্থী কর্মীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তরুণদের বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য এবং দেশের অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। একই সময়ে জাতিগত উত্তেজনাও তীব্র হচ্ছিল। এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
অস্থির সেই সময়ে নন্দ মালিনীর গানও সরকারের নজরে আসে। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ জাতীয় বেতারে তার গান প্রচার নিষিদ্ধ করে। তবে এতে তার জনপ্রিয়তা কমেনি। ভক্তরা তার গান শোনা এবং কনসার্টে যাওয়া চালিয়ে যান। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় তার আলোচিত অ্যালবাম ‘পাওয়ানা’। এই অ্যালবামের গানগুলোতে মানবাধিকার, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং সামাজিক নানা সমস্যা উঠে আসে। মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাড়ানোর আহ্বান জানানো হয় এসব গানে। ‘পাওয়ানা’ অ্যালবামটি পরে শ্রীলঙ্কার অস্থির রাজনৈতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগীতকর্ম হিসেবে পরিচিতি পায়। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে এই অ্যালবামের গানগুলোকে এখনও গুরুত্বপূর্ণভাবে দেখা হয়।

দশকের পর দশক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নন্দ মালিনীর সক্রিয়তা থেমে থাকেনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলেছেন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই আন্দোলনের প্রতিও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান মালিনী। বিক্ষোভকারীদের একটি সমাবেশে তিনি গানও পরিবেশন করেন। কয়েক মাস ধরে চলা ওই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।
নন্দ মালিনীর মৃত্যুতে শ্রীলঙ্কা সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নন্দ মালিনীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাকে ‘আমাদের সময়ের সত্যিকারের সংগীত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, নন্দ মালিনীর কালজয়ী সংগীত শ্রীলঙ্কার তরুণ ও প্রবীণ- সব প্রজন্মের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ