আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজরাজনীতিআলমডাঙ্গায় শিবির নেতার ওপর হামলা, জামায়াত-বিএনপি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

আলমডাঙ্গায় শিবির নেতার ওপর হামলা, জামায়াত-বিএনপি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ




আলমডাঙ্গা অফিস:

আলমডাঙ্গায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি আরিফুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার পৌর এলাকার নান্নু-টগর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত আরিফুল ইসলাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে আগে থেকে চলে আসা তর্ক-বিতর্কের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় কয়েকজন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির কর্মীরা আরিফুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার নান্নু-টগর সড়ক এলাকায় আরিফুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। তার শরীরের কোথায় কী ধরনের আঘাত লেগেছে বা তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কেমন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, আরিফুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আগে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, হামলার প্রতিবাদে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে এ মিছিলটি উপজেলা গেট থেকে বের হয়ে হাইরোড দিয়ে চারতলা মোড় হয়ে আলমডাঙ্গা থানার সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও ডাউকী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইউসুফ আলী। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামজামী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফ হোসাইন বলেন, সোমবার বিকেল ৪টার সময় নান্নু টগর মোড়ে ছাত্রশিবিরের সাবেক চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আরিফুল ইসলামের ওপর সন্ত্রাসীরা যে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র পদপ্রার্থী শেখ নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হীরক, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি শফিউল আলম বকুল, গাংনী-আসমানখালী থানা জামায়াতের আমির আব্বাস উদ্দিন এবং আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা তারবিয়াত সম্পাদক বিলাল হোসাইন, অফিস সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বেলগাছি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মামুন রেজা। দলীয় সূত্র জানায়, বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাত আটটার দিকে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগ দেয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ টিপু বলেন, প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অপরদিকে, জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পর রাত সাড়ে আটটার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আলমডাঙ্গা হাইরোড প্রদক্ষিণ করে আলতায়েবা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরিফুল ইসলামের ওপর হামলায় তাদের দলের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানান, তারা নিজেরা মারমারি করে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন।
হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, হামলার উদ্দেশ্য কী এবং ঘটনাটি রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত নাকি অন্য কোনো বিরোধের ফল এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জামায়াতের দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে আরিফুল ইসলাম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ