আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজঅর্থনীতিগাংনীতে সবজির দামে ধস,  খরচ তুলতে হিমশিম কৃষক

গাংনীতে সবজির দামে ধস,  খরচ তুলতে হিমশিম কৃষক




গাংনী অফিস:

ভালো দামের আশায় উচ্চমূল্যের সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করেছিলেন মেহেরপুরের গাংনীর কৃষকেরা। কিন্তু জমি থেকে সবজি তোলার পর সেই কাক্সিক্ষত দাম আর মিলছে না। গত দুই সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে একের পর এক সবজির দর কমছে। কোনো কোনো সবজির দাম নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষকদের ভাষ্য, গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদনে শীতকালীন সবজির তুলনায় খরচ বেশি। বর্ষায় রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও সেচসহ প্রায় সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। অথচ সেই তুলনায় বাড়েনি সবজির দাম। বরং পাইকারি বাজারে দরপতন অব্যাহত থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাংনী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় পাইকারি বাজারে পটল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা, করলা ২০ টাকা, পেঁপে ৮ টাকা ও চাল কুমড়া ৮ টাকা কেজি দরে। লাউ বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ২০ টাকা দরে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এসব সবজির অনেকগুলোর দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪০ টাকার ওপরে। শুধু পটল, করলা কিংবা লাউ নয়, অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের দরপতনের কথা জানিয়েছেন কৃষকেরা। কয়েক দিন আগেও যে দামে সবজি বিক্রি করে কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন তারা, এখন সেই দাম দ্রুত কমে যাওয়ায় হিসাব মিলছে না জমির খরচের সঙ্গে।
সাহারবাটি গ্রামের বেগুনচাষি মধু বলেন, বুধবার পাইকারিতে বেগুন বিক্রি করেছেন কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে। বৃহস্পতিবার সেই বেগুনই ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হয়েছে। তার ভাষায়, সার, কীটনাশক, শ্রমিকÑসবকিছুর দাম বেড়েছে। সবজি চাষে আগের তুলনায় খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এভাবে দাম কমতে থাকলে শেষ পর্যন্ত লোকসান গুনতে হবে।
আরেক সবজি চাষি একরামুল বলেন, ১০ দিন আগেও সবজির দাম বেশ ভালো ছিল। এখন অনেক সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে বর্গাচাষি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ তাদের উৎপাদন খরচের বড় অংশই ধারদেনা করে জোগাড় করতে হয়।
কৃষকেরা জানান, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে টিএসপি সার কিনতে হচ্ছে। বর্ষাকালে উৎপাদন ঠিক রাখতে জমিতে বাড়তি কীটনাশকও প্রয়োগ করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পাইকারি বাজারে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন কৃষকের লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে খুচরা বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে অসন্তোষ।
গাংনী কাঁচাবাজারের আড়তদার সাহাদুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ সবজি চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে এসব অঞ্চলে সবজির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় পাইকারি বাজারে দাম কমে গেছে। তবে স্থানীয় বাজারেও খুচরা পর্যায়ে সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে গাংনীতে সবজির আবাদ ও উৎপাদন দুটিই ভালো হয়েছে। একই সময়ে একই ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাজারে দাম কমেছে। এতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে এলাকায় বেশি পরিমাণে সবজি চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনও ভালো হয়েছে। একই সময়ে একই ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে জেলার বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি পরিমাণে সবজি কিনতে এলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং কৃষকেরা কিছুটা ভালো দাম পেতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ