আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগজীবননগরে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, হুমকিতে ছোট ব্রিজ

জীবননগরে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, হুমকিতে ছোট ব্রিজ




জীবননগর অফিস:

জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের জোয়ার্দার পাড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় মল্লিক পাড়া থেকে জোয়ার্দার পাড়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যদিনের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোয়ার্দার পাড়া ও রোকনের বাড়ির সামনের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি প্রকট। বৃষ্টি হলেই আশপাশের পানি নেমে যাওয়ার কোনো কার্যকর পথ না থাকায় সড়ক ও বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকে। কখনো কখনো সেই পানি হাঁটু পর্যন্ত উঠে যায়। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য মল্লিক পাড়া থেকে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু জোয়ার্দার পাড়ার শেষ সীমানায় এসে সেই কাজ থেমে যায়। এরপর আর ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। তাদের দাবি, অবশিষ্ট মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা গেলেই পানি নিষ্কাশনের একটি কার্যকর পথ তৈরি হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের পাড়ায় হাঁটু পানি জমে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ মিটার ড্রেন করা হলে এই দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হতো। স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির সময় পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন চলাচলে দুর্ভোগ হয়, অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী বা বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে জোয়ার্দার পাড়ার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আমি অবগত। দ্রুত ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
তবে জলাবদ্ধতার সমস্যার সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ছোট ব্রিজটির নিরাপত্তাঝুঁকি। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিজের আশপাশে পানি জমে থাকায় এর দুই পাশের মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটি ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে ব্রিজের ভিত্তি ও সংযোগস্থল দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পানি ও মাটিক্ষয়ের কারণে ব্রিজটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শুধু জলাবদ্ধতার দুর্ভোগই নয়, এলাকার মানুষের চলাচলেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। মল্লিক পাড়া থেকে শুরু হওয়া ড্রেন নির্মাণকাজ যেখানে থেমে আছে, সেখান থেকে জোয়ার্দার পাড়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত অবশিষ্ট ২০০ থেকে ৩০০ মিটার ড্রেন দ্রুত নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি ছোট ব্রিজটির চারপাশের ক্ষয়ে যাওয়া মাটি সংস্কার করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসন এবং ছোট ব্রিজটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান জোয়ার্দার পাড়ার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে, অন্যদিকে রক্ষা পাবে গুরুত্বপূর্ণ ছোট ব্রিজটিও।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ