আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰‘নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে’📰দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ রুটে ট্রেন চালুর দাবি লোকমোর্চার📰অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগপত্র জালিয়াতি, অভিযুক্ত শাহজামাল গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদায় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত যুবকের গলা-ঘাড়ে কোপ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ📰আলমডাঙ্গায় কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবে আবৃত্তি-নাটকে মুগ্ধ দর্শক📰জীবননগরে মনোহরপুরে ভৈরব নদের পাড়ে ২ হাজার গাছ কর্তন📰বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আলমডাঙ্গার সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদার নাটুদহে লংমার্চ উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা📰মাথাভাঙার ভাঙনে আতঙ্কে নগরবোয়ালিয়ার ১৫ পরিবার
হোম পেজশিক্ষাটেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরপর দু’দফায় ফাঁস, তদন্ত কমিটি গঠন

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়:

টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরপর দু’দফায় ফাঁস, তদন্ত কমিটি গঠন




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার আগের রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সকালে নতুন করে দ্বিতীয় দফায় প্রশ্নপত্র তৈরি করা হলেও সেটিও ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্রও বাতিল করে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সব সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সকালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম। তবে এর আগে গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফুন নাহার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যালয় থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর থেকে ডে শিফটের ১২২ ও মর্নিং শিফটের ১১২ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার প্রথম দিন অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের জনি ফটোস্ট্যাট নামের একটি দোকান থেকে ওই নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। যা পরদিন সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। অভিযোগ রয়েছে, রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত ওই দোকানে প্রশ্নপত্র কেনাবেচা চলে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার সকালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে বাংলা প্রথম পত্রের আরেকটি প্রশ্নপত্র তৈরী করে। এরপর স্কুলের ফটোকপি মেশিন নষ্ট থাকার অজুহাতে সকাল ৭টার দিকে ওই প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে ফটোকপি করতে যাওয়া হয়। সে সময় আবারও দ্বিতীয়বারের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। দ্বিতীয়বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নজরে এলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পরীক্ষা স্থগিত করেন।
এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত জনি ফটোস্ট্যাস্টের দোকানটিতে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে প্রশ্নপত্র দোকানটিতে পৌঁছাল এবং এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কী-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস এবং এ ঘটনায় কার কতটুকু দায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মীর্জা শহীদুল ইসলাম জানান, জনি ফটোস্ট্যাস্ট নামে ওই দোকানে অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কম্পিউটার থেকে কিছু ডকুমেন্টস আমাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ জানার পর গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এ সময় তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদ্যালয়ে জরুরি সভা করেন। সভায় পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের শোকজ করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। শোকজ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহা. শাহজাহান আলী ও হাসানুজ্জামান হেদায়েত, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মহসীন আলী ও মুজিবুর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম। তাদের কাছে এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলেন, গত ১৫ অক্টোবর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর রবিবার রাতে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে সোমবারের নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) নেয়া হবে। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা প্রশাসন তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এই বিদ্যালয় থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সব সদস্যকে শোকজ করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ