আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰‘নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে’📰দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ রুটে ট্রেন চালুর দাবি লোকমোর্চার📰অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগপত্র জালিয়াতি, অভিযুক্ত শাহজামাল গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদায় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত যুবকের গলা-ঘাড়ে কোপ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ📰আলমডাঙ্গায় কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবে আবৃত্তি-নাটকে মুগ্ধ দর্শক📰জীবননগরে মনোহরপুরে ভৈরব নদের পাড়ে ২ হাজার গাছ কর্তন📰বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আলমডাঙ্গার সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদার নাটুদহে লংমার্চ উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা📰মাথাভাঙার ভাঙনে আতঙ্কে নগরবোয়ালিয়ার ১৫ পরিবার
হোম পেজশিক্ষাআলমডাঙ্গায় টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ, জামায়াত নেতার হুমকি

আলমডাঙ্গায় টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ, জামায়াত নেতার হুমকি




‎‎ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি কোচিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে অন্যদিন পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তদন্তের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি পরিচয় দেওয়া রুজন আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।
‎‎গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ে ইংরেজি প্রথম পত্রের টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তারা দেখতে পায়, গত ২৩ অক্টোবর পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ারে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে আসে। ‎পরে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করে। এ সময় তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং কোচিং সেন্টারটি বন্ধের দাবি জানায়। শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, পূজার ছুটির আগে অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গেও কোচিং সেন্টারে নেয়া পরীক্ষার প্রশ্নের অনেক মিল ছিল।
‎‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষিকা আক্তার জাহান। তিনি পূজার ছুটির আগেই প্রশ্ন তৈরি করে জমা দেন। পরে অন্য একজন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্নটি কম্পোজ করিয়ে চূড়ান্ত করা হয়। বাইরে থেকে কারও মাধ্যমে প্রশ্ন তৈরি বা সংগ্রহ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
‎‎প্রধান শিক্ষক বলেন, কোচিং সেন্টারের প্রশ্নের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশ্ন হুবহু কীভাবে মিলে গেছে, তা বুঝতে পারছি না। সকালে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র দেয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল থেকে বের হয়ে আসে। তারা পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নে অন্যদিন পরীক্ষা নেয়ার আবেদন করেছে।
‎‎প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা আক্তার জাহান বলেন, তিনি পূজার ছুটির আগেই প্রশ্ন তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিয়েছেন। প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে জানান তিনি।
‎‎অন্যদিকে, পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ারের পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্ন তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। এ জন্য গুগল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহযোগিতা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়ার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট নথি বা প্রশ্নপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে সাংবাদিকদের দাবি।
‎‎এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় কোচিং পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন তার মুঠোফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে নিজের ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি রুজন আলী, যিনি ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে পরিচয় দেয়া হয়। ‎সাংবাদিকদের অভিযোগ, ফোনে কথা বলার সময় রুজন আলী তাদের উদ্দেশে বলেন, এলাকায় ঢুকেছেন কার অনুমতিতে, ওই প্রতিষ্ঠান আমার। আপনাদের এত সাহস হয় কীভাবে আমার প্রতিষ্ঠানে আসার? এরপর থেকে এলাকায় ঢুকলে আমার অনুমতি নিয়ে ঢুকবেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
‎‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ারে কোচিং করে। ‎শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশ্নপত্র তৈরি ও সংরক্ষণে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে।
‎‎আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
‎‎প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কোচিং সেন্টারের প্রশ্নের মিল থাকার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরি ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়া এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ