আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ রুটে ট্রেন চালুর দাবি লোকমোর্চার📰অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগপত্র জালিয়াতি, অভিযুক্ত শাহজামাল গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদায় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত যুবকের গলা-ঘাড়ে কোপ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ📰আলমডাঙ্গায় কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবে আবৃত্তি-নাটকে মুগ্ধ দর্শক📰জীবননগরে মনোহরপুরে ভৈরব নদের পাড়ে ২ হাজার গাছ কর্তন📰বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আলমডাঙ্গার সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদার নাটুদহে লংমার্চ উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা📰মাথাভাঙার ভাঙনে আতঙ্কে নগরবোয়ালিয়ার ১৫ পরিবার📰১২ কেজি এলপিজির দাম এবার ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
হোম পেজশিক্ষাঅর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগপত্র জালিয়াতি, অভিযুক্ত শাহজামাল গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ঃ 

অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগপত্র জালিয়াতি, অভিযুক্ত শাহজামাল গ্রেপ্তার




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক ও চার সাবেক প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর স্ক্যান করে সংরক্ষণ এবং সেগুলো ব্যবহার করে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিফট পরিবর্তন ও নিয়োগপত্র তৈরির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির অফিস সহকারী শাহাজামাল শেখের (৪০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা হয়েছে। মামলায় শাহাজামাল শেখকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে সদর থানায় হস্তান্তর করে। গ্রেফতারকৃত শাহজামাল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী।
বুধবার বেলা তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এসব অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী অভিযুক্ত অফিস সহকারীর ব্যবহৃত কম্পিউটারে সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা এবং বিদ্যালয়টির চার সাবেক প্রধান শিক্ষকের স্ক্যান করা স্বাক্ষর দেখতে পান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এসব স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মের কথা শাহাজামাল স্বীকার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত এজাহার দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেখ রেজাউল করিম ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শাহাজামাল শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা তিনি জানতে পারেন। এছাড়া শাহাজামালের নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছিল বলেও অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়টি আকস্মিক পরিদর্শনে যান। তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের একপর্যায়ে শাহাজামালের অফিস ও ডরমেটরি কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে শাহাজামালের ব্যবহৃত কম্পিউটারটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়, তা জানতে চান এবং সেটি চালু করতে বলেন। কম্পিউটার চালু করার পর বিভিন্ন ফাইল পরীক্ষা করে সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমার স্ক্যান করা স্বাক্ষর দেখতে পান তিনি। একই কম্পিউটারে বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকার, দিল আরা চৌধুরী, মাহফুজুল হোসেন ও মুহা. শাহজাহান আলীর স্ক্যান করা স্বাক্ষরও সংরক্ষিত ছিল।
এজাহারে বলা হয়েছে, এসব স্বাক্ষর সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অভিযুক্ত শাহাজামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিফট পরিবর্তন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য মাস্টাররোলের নিয়োগপত্র তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। পরিদর্শনের সময় শাহাজামালের অফিস কক্ষ পরীক্ষা করে ১০০ টাকা মূল্যমানের চারটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, স্ট্যাম্পগুলো পর্যালোচনা করে বিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী মোছা. মাইশা খাতুন ও স্বাগতা সাবাবার আসন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় ওই দুই শিক্ষার্থীর আসন শূন্য হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, মাইশা খাতুনের শূন্য আসনে মোছা. সুমাইয়া জান্নাত এবং স্বাগতা সাবাবার শূন্য আসনে তাসনিম তাবাসসুমকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা (এফিডেভিট) তৈরি করে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ভর্তি করানো হয়। এসব ভর্তি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক জেলা প্রশাসক ও সাবেক প্রধান শিক্ষকদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর অবৈধভাবে ব্যবহার করে তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি শিফটের ‘ক’ শাখায় যেসব শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলোÑতাসনিম ফাতিহা (রোল ৬৪), মিস মেহেরীন ইবনাথ রোজা (রোল ৬৫), মারিয়াম হুমাইরাহ (রোল ৬৬), তাহসিনা (রোল ৬৭), ফাতিমা তারানুম তাসবি (রোল ৬৮), ছারা ইসলাম (রোল ৬৯), আনিশা তাবাচ্ছুম (রোল ৭১), মোহাইমিনা মৌমি (রোল ৭৩) ও মিস উম্মে আয়ামান (রোল ৭৫)। অন্যদিকে তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি শিফটের ‘খ’ শাখায় ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছেÑফারহা তাজনিন (রোল ৬৪), আনিশা আক্তার তাজনিন (রোল ৬৫), হুমাইরা জান্নাত (রোল ৬৬), তাসনিয়া আইজা সাবা (রোল ৬৭), নুজহাত মারিয়াম (রোল ৬৮), লাবনী জামান (রোল ৭১) ও কথা দাশ (রোল ৭২)। এজাহারের এই তালিকায় ‘ক’ শাখায় ৯ জন এবং ‘খ’ শাখায় ৭ জনের নাম রয়েছে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ জন। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণিতে মোছা. জামিয়া সিদ্দিকা নামের এক শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করানোর অভিযোগ করা হয়েছে। তার রোল নম্বর ৫৮। জামিয়া সিদ্দিকা চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে। এজাহারে বলা হয়েছে, এই ভর্তি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছিল না।
এদিকে, শাহাজামালের বিরুদ্ধে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনেই নয়, নিজের নিয়োগ সংক্রান্ত নথিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এজাহারে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নিয়োগপত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে শাহাজামালের নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই নিয়োগপত্র সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। এছাড়া ২০১৬ সালের ৪ জুলাই শাহাজামালের বিদ্যালয়ে যোগদান সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্রও পাওয়া গেছে। ওই আবেদনপত্রটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লেখা এবং তাতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকারের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নথির মাধ্যমে শাহাজামালের নিজের নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বাদী শেখ রেজাউল করিম এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, শাহাজামাল শেখের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা অন্য ব্যক্তিরাও একই উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহা. শাহজাহান আলী ও মো. ইমন আলীসহ আরও অনেকে অবগত রয়েছেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এর আগে এসএসসি পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও সামনে এসেছিল। গত ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়টির ২০২৭ সালের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র দুই দফায় ফাঁসের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, অবৈধ শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে মামলা হলো।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, প্রধান শিক্ষকের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা (মামলা নং-১৬) দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাখায়েতুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে আইনি পদক্ষেপ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ