আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজস্বাস্থ্যথ্যালাসেমিয়ায় বন্দী মেহেরপুর উজলপুরের অসহায় শিশু সাজ্জাদ

থ্যালাসেমিয়ায় বন্দী মেহেরপুর উজলপুরের অসহায় শিশু সাজ্জাদ




মেহেরপুর অফিস:

দুই ব্যাগ রক্তে টিকে আছে ১৬ বছরের সাজ্জাদ হোসেন। জন্মের দুই বছর পর থেকেই থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করছে এই কিশোর। একসময় মাসে এক ব্যাগ রক্তেই চললেও এখন বেঁচে থাকতে প্রয়োজন হচ্ছে দুই ব্যাগ রক্ত। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাসে দুইবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের চিকিৎসায় সাজ্জাদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে পৈত্রিক সম্পদের বড় অংশ বিক্রি করেছেন তার বাবা রবিউল ইসলাম। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাজ্জাদকে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। এতে খরচ হবে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কৃষক বাবার পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখন মানবিক সহযোগিতার অপেক্ষায় ১৬ বছরের সাজ্জাদ।
মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের সাহাজী পাড়ায় সাজ্জাদের বাড়ি। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক শৈশব কাটেনি তার। জন্মের দুই বছর পর থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত রক্ত নিতে হচ্ছে তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসায় বর্তমানে মাসে দুই ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। অসুস্থতা বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমি আমার বয়সী অন্য ছেলেদের সঙ্গে খেলতে পারি না, এতে আমার খুব কষ্ট হয়। আমার ইচ্ছা করে স্কুলে যাব, খেলাধুলা করব, বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাব। কিন্তু এসব আমার হয় না। অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা ও খেলাধুলার পাশাপাশি স্বাভাবিক কৈশোরও হারিয়ে যাচ্ছে সাজ্জাদের। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গেলেও শুনতে হয় কষ্টদায়ক কথা। সাজ্জাদ বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গেলে তারা বলে, তুমি তো অসুস্থ, তোমার সঙ্গে কি খেলব? লাগলেই তো পড়ে যাবা। অসুস্থতা বাড়লে পেটে তীব্র ব্যথা, হাঁটতে না পারা, খাবার খেতে না পারা এবং শরীরে জ্বালাপোড়াসহ নানা শারীরিক কষ্টে ভুগতে হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে পৈত্রিক জমির বড় অংশ বিক্রি করেছেন তার বাবা।
সাজ্জাদের চাচা আলমগীর হোসেন বলেন, জন্মের পর থেকেই সাজ্জাদকে প্রতিমাসে এক ব্যাগ করে রক্ত দেয়া লাগতো, এখন দুই ব্যাগ লাগে। চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হয়। পেটে ব্যথা বাড়লে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়, তখন খরচ আরও বেড়ে যায়।
সাজ্জাদের বাবা কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, ছেলের চিকিৎসায় গত ১৪ থেকে ১৫ বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমি বিক্রি করে এতদিন চিকিৎসা চালালেও এখন আর তার সেই সামর্থ্য নেই। বর্তমানে অন্যের জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। রবিউল ইসলাম বলেন, গত ১৪ বছর যাবত সাজ্জাদের চিকিৎসা করতে আমার প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দুই বছর আগে ডাক্তার জানিয়েছে বোন ম্যারোর অপারেশন করতে হবে। খরচ প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। এ খরচ মেটানোর সাধ্য আমার নাই। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী থ্যালাসেমিয়া থেকে সাজ্জাদকে নিরাময় করতে বো ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন। তবে বিপুল এই অর্থের সংস্থান করতে পারছেন না তার বাবা। সরকারি সহায়তার আশায় গত দুই বছর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো অনুদান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। রবিউল ইসলাম বলেন, ডিসি অফিসে গিয়েছি, সেখান থেকে জেলা পরিষদে যেতে বলা হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে সমাজসেবা অফিসে যেতে বলেছে। আবার উপজেলা অফিস থেকে জেলা অফিসে যেতে বলেছে। এভাবেই গত দুই বছর কেটে গেছে, কোনো ধরনের অনুদান আমি পাইনি।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আশাদুল ইসলাম বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই শেষে এই সহায়তা দেয়া হয়।
তবে সরকারি এই সহায়তা সাজ্জাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় খুবই সামান্য। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রয়োজন আরও বড় অঙ্কের অর্থ। তাই সরকার, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান মানুষকে সাজ্জাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। দুই ব্যাগ রক্ত আর অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যেও স্বপ্ন দেখে ১৬ বছরের সাজ্জাদ। তার চাওয়া খুব বেশি নয় স্কুলে যেতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চায়, ঘুরতে চায় এবং অন্য সবার মতো স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চায়। সেই স্বপ্ন পূরণে এখন প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতার হাত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ