নিজস্ব প্রতিবেদক:
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্ষুদে খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডকে চারটি ভেন্যুতে ভাগ করে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম। বিভিন্ন খেলায় অংশ নিচ্ছে বালক ও বালিকারা। তাদের অংশগ্রহণে মাঠগুলোতে তৈরি হয়েছে ক্রীড়ামুখর পরিবেশ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার চারটি ভেন্যুতে ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে বালক ও বালিকাদের প্রাথমিক খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) চার ভেন্যুর প্রতিযোগীদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে একযোগে অ্যাথলেটিকস ও মার্শাল আর্টের বিভিন্ন ইভেন্টের বাছাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম-সংলগ্ন সুইমিংপুলে সাঁতার, টেবিল টেনিস ও দাবা প্রতিযোগিতার বাছাই সম্পন্ন হবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডকে চারটি জোনে ভাগ করে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিযোগীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বেলগাছি নবদিগন্ত ফুটবল মাঠ। ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভেন্যু চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠ। ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে। আর ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তালতলা ফুটবল মাঠ।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের নিয়েই এই বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাছাইপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে গঠন করা হয়েছে ৩০ সদস্যের একটি খেলোয়াড় বাছাই কমিটি। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন ভেন্যুতে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ও বাছাই কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যায়। গতকাল চারটি ভেন্যুতে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল ইসলাম মনি, ইসলাম রকিব, ফিরোজ উদ্দিন, রিপা শাহারিয়ার, শামসুন্নাহার শিলা, দিলরুবা খুকু, আকরামুজ্জামান শোভন, সোহেল রানা, তরিকুল ইসলাম তরু, ফরহাদ হোসেন, আব্দুল হাই, বিলকিস নাহার, আইরিন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, খাজের আহম্মেদ, আশাদুল হক আসা ও সোহেল রানা। খেলোয়াড় বাছাই কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম আব্দুস সবুর খান ও করসহকারী জাহাঙ্গীর আলম।
প্রতিটি ভেন্যুতে পৌর এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত থেকে ক্ষুদে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতি প্রতিযোগীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করছে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি, নিয়মিত চর্চার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিভা বিকাশের পথ খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে এই ক্ষুদে খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার মতো খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে।


