আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজস্বাস্থ্যভুল অস্ত্রোপচারে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের

ভুল অস্ত্রোপচারে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের




জীবননগর অফিস:

জীবননগরে চিকিৎসায় ভুল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সোহাগী খাতুন (১৪) নামের এক অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার বিকেলে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে ভুল অস্ত্রোপচার, পরবর্তী চিকিৎসায় অবহেলা এবং অতিরিক্ত ঘুমের ইনজেকশন দেয়ার কারণে সোহাগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোহাগী খাতুন জীবননগর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মোমিনুর রহমান মণ্ডলের মেয়ে। সে স্থানীয় বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহাগীকে জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম দ্রুত অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন ২৮ আগস্ট চিকিৎসক নিজেই সোহাগীর অস্ত্রোপচার করেন। ৩০ আগস্ট তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে বাড়ি ফেরার পরপরই সোহাগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার প্রচণ্ড বমি, মাথাব্যথা ও তীব্র জ্বর দেখা দেয়। একপর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে ২ সেপ্টেম্বর তাকে আবার ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সোহাগীর মা লাভলী খাতুন অভিযোগ করেন, দ্বিতীয়বার ক্লিনিকে নেয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সোহাগীকে ভর্তি রেখে একটি ঘুমের ইনজেকশন দেয়া হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর আর তার জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি করেন তিনি। পরে ডা. রফিকুল ইসলামের পরামর্শে সোহাগীকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
সোহাগীর খালা নাসিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, মনোয়ারা সনো সেন্টার থেকে দেয়া আগের সব রিপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঢাকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মেয়েটির অস্ত্রোপচার করার মতো মূল কোনো সমস্যা ছিল না। ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত ঘুমের ইনজেকশন ও অবহেলার কারণেই আমাদের মেয়েটার জীবন গেল।
তবে স্বজনদের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, সোহাগীর অস্ত্রোপচার তিনিই করেছিলেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ