নিজস্ব প্রতিবেদক:
দর্শনা পৌর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন মঙ্গলবার রাতে কয়েকটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার দর্শনা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে শহরের কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট লীগ’সহ কয়েকটি ফেসবুক পেজে একটি মশাল মিছিলের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে মশাল হাতে মিছিল করতে দেখা যায়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর মধ্যে ছিলÑ‘টগর ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘চুয়াডাঙ্গার মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’ এবং ‘দামুড়হুদার মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’Ñএ ধরনের স্লোগান। তবে ভিডিওটি ঠিক কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল বুধবার সকালে দর্শনা পৌর শহরের কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় ও ভূক্তভোগী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত আনোয়ারপুরের কুদ্দুসের ছেলে অনিকের (২৮) বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। একই সময় দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবুর বাড়ির গেটেও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক আরিফের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ভাঙচুরের সময় দোকানে ছিলেন আরিফের স্ত্রী ফারিযা বেগম লিলা (৪৮)। দোকানের কাঁচ ভাঙার সময় একটি ভাঙা কাঁচের টুকরা তার মাথায় লাগে। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়িঘর কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, মশাল মিছিলের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় দর্শনা পৌর বিএনপি, থানা ছাত্রদল ও যুবদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। দর্শনা রেলবাজারের শাহরিয়ার শুভ মুক্তমঞ্চ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য খন্দকার শওকত আলী। এ সময় নাহারুল ইসলাম মাস্টার, ইকবাল হোসেন, নাসিরুদ্দিন খেদু, লুৎফর রহমান, মমিনুল ইসলামসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খন্দকার শওকত আলী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামে এ ধরনের মিছিল বরদাশত করা হবে না। তবে আমাদের পক্ষ থেকে কারও বাড়িঘর বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ভাঙচুর করা হয়নি।
দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু বলেন, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। কে বা কারা আমার বাড়ির গেট ভেঙেছে, তা আমি জানি না। আমরা চাই না কোনো সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের বিপদ নেমে আসুক।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মশাল মিছিলের একটি ভিডিও তিনি দেখেছেন। ভিডিওটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার তিনটি স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তিনি জানান , সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির স্থান, সময় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের অভিযোগগুলোর বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


