আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশদামুড়হুদায় সড়ক সংস্কারে ব্যক্তিমালিকানাধীন ধানি জমির মাটি কাটার অভিযোগ

দামুড়হুদায় সড়ক সংস্কারে ব্যক্তিমালিকানাধীন ধানি জমির মাটি কাটার অভিযোগ




দর্শনা অফিস:

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের দুধপাতিলা গ্রামে সড়ক সংস্কারকাজে অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিমালিকানাধীন ধানি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকদের দাবি, তাদের প্রায় ৩৫ শতক জমির বিভিন্ন অংশ থেকে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ গাড়ি মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। এতে জমির বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং আগের মতো ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের প্যালাসাইডিংয়ের একটি পিলার রাস্তার সীমানা থেকে প্রায় ১০ ফুট ভেতরে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তবে ঠিকাদারের দাবি, সড়কের সংস্কারকাজের প্রয়োজনেই রাস্তার পাশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়নি। আর প্যালাসাইডিংয়ের অবস্থান সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সরেজমিন নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।
জমির মালিক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান টিটু বলেন, দলিল অনুযায়ী তাদের জমির পরিমাণ ৩৫ শতক। তবে সংশ্লিষ্ট ম্যাপে ৩৬ শতক জমি উল্লেখ রয়েছে। জমিটির দুই পাশেই সড়ক সংলগ্ন তাদের মালিকানাধীন জমি রয়েছে। টিটুর অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সময় তাদের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি কিংবা আগে থেকে বিষয়টি জানানোও হয়নি। জমির বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। তার ধারণা, প্রায় ১০ থেকে ১৫ গাড়ি মাটি নেয়া হতে পারে। মাটি কাটার পর জমির বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জমিটি আগের মতো সমতল না থাকায় ধান চাষে সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সড়কের কাজে ব্যবহারের জন্য আশপাশ থেকে কাটা মাটি তাদের জমির ওপর ফেলে রাখায় চাষযোগ্য জমিরও ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের প্যালাসাইডিংয়ের একটি পিলার রাস্তার কিনারে না বসিয়ে তাদের জমির প্রায় ১০ ফুট ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কোনো পূর্বানুমতি নেয়া হয়নি এবং বিষয়টিও জানানো হয়নি। জমির মালিকদের ভাষ্য, সড়কের কাজ চলার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না। পরে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে এসে জমির অবস্থা দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। স্থানীয় কয়েকজন কাজের বিষয়ে আপত্তি তুললেও তা আমলে নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। কাজের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সময় পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সড়ক সংস্কার কাজের ঠিকাদার আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘জোয়ার্দ্দার সাপ্লাইস’। তিনি নিজেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কারকাজ এখনো চলমান। কাজটির ব্যয় এক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনে রাস্তার আশপাশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ওই মাটি অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়নি। সড়কের শোল্ডার ও এজিং সুরক্ষার প্রয়োজনেই মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে প্যালাসাইডিংয়ের পিলার স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার বলেন, কাজের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। তারাই সরেজমিনে প্যালাসাইডিংয়ের অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস আগে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ করা হয়েছে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই কাজটি হয়েছে। তখন কোনো আপত্তি তোলা হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা যেত।
জমির মালিকেরা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না এবং কাজের সময় তারা সেখানে ছিলেন নাÑএ কথা উল্লেখ করে ঠিকাদার বলেন, মালিকেরা সম্প্রতি এলাকায় এসে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন।
এদিকে জমির মালিকদের অভিযোগের পর সড়ক সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু মাটি নেয়া হয়েছে, প্যালাসাইডিংয়ের পিলারটি সরকারি সড়কের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে রয়েছে কী-না এবং এতে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কতটুকু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেÑসরকারি জরিপ ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের সরেজমিন তদন্ত ছাড়া তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
জমির মালিকেরা নিরপেক্ষভাবে জমি পরিমাপ করে সরকারি সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহারের ক্ষতিপূরণসহ আইনগত ও প্রশাসনিক প্রতিকার নিশ্চিত করারও দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, অনুমতি না নিয়ে অন্যের ধানি জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করে থাকলে সেটা অন্যায় হয়েছে। আমরা তাকে মাটি কাটার অনুমতি দিইনি। জমির মালিকেরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফলে সড়ক সংস্কারের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ এবং প্যালাসাইডিংয়ের পিলার স্থাপনের বিষয়টি সরেজমিন পরিমাপ ও তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে একদিকে সড়কের উন্নয়নকাজ যেমন নির্বিঘ্নে এগিয়ে যাবে, অন্যদিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ