আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজজাতীয়গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে মুখোমুখি দুই জোট

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে মুখোমুখি দুই জোট




ঢাকা অফিস:

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। এ নিয়ে ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। যুক্তি-পাল্টা যুক্তির সঙ্গে চলছে বাহাস। দুই জোটের নেতারা রাজনীতির মাইকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তপ্ত হচ্ছে সংসদ অধিবেশন। সংসদ থেকে ইস্যুটি গড়িয়েছে রাজপথেও। ১১-দলীয় জোটের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা পূরণের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এরই মধ্যে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর এ লংমার্চ শেষ হয়। সামনে আরও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গণভোটের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের তীব্র মতবিরোধ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের মতে গণভোটের রায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়ন্ত্রিত রূপরেখা বাস্তবায়নের পক্ষে। অপরদিকে, বিরোধী জোট এই বিলম্বকে ‘জনগণের রায়ের প্রতি অবমাননা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণ তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই কোনো অজুহাত ছাড়াই অবিলম্বে এই রায় পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সোচ্চার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। অন্যদিকে সাংবিধানিক যুক্তি ও স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদে দেয়া নোট অব ডিসেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকারদলীয় জোট। বিশ্লেষকদের মতে আগামীতে এ নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান আরও উত্তপ্ত হতে পারে। কারণ এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে রাজপথে নামা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারদলীয় জোট বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কোন প্রেক্ষাপটে গঠন হয়েছে তা কারও অজানা নয়। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের মধ্যে যদি ঐক্য বজায় না থাকে তাহলে দেশের রাজনীতির চিত্রপট পাল্টে যেতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট ইস্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ নিয়ে সরকার এবং আমরা এখনো দুই মেরুতে রয়েছি। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপমান করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এই দাবি থেকে সরে আসতে তাদের লোভ দেখানো হয়েছে, চাপও দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো চাপ বা প্রলোভনই তাদের অবস্থান বদলাতে পারবে না। গণভোটের রায় মেনে সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় জোট।
তাদের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের মতো ‘রুটিন কাজের’ জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি, বরং এ বিপ্লব ছিল রাষ্ট্র কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের জন্য। গণভোটে জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না করা মানে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণভোটে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের রায় অস্বীকার করে সরকার এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। সংবিধান সংশোধন সংসদের নিয়মিত কাজ, কিন্তু এর জন্য বিপ্লব বা গণভোট হয়নি। সংস্কার এড়িয়ে শুধু সংশোধনের পথে গেলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন বৈধ, কিন্তু গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারকে অবৈধ বলা দ্বিচারিতা। সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোট প্রসঙ্গে বলেছেন, গণভোট আয়োজনে একটি অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। গণভোট হয়েছে। এই অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়েছে। এর কোনো বিরোধিতা নেই। এই অধ্যাদেশকে সংসদে ধারণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহার করার আর কিছু নেই। একই প্রসঙ্গে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকে বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে আসছেন। আমাদের ওই অবস্থান এখনো অটুট রয়েছে। যেকোনো বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ সবসময় খোলা। তারা জানান, সংবিধান সংশোধনে আমরা বিরোধী জোটের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চেয়েছি। ওই পথ এখনো খোলা রয়েছে। তারা যেকোনো সময় কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি দিতে পারে। সরকারি দলের এ আহ্বানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধীদলীয় জোট। তারা স্পষ্ট করেছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটিতে তারা কোনো প্রতিনিধির নাম দেবে না। একই সঙ্গে তারা গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতির দাবি জানিয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি দ্রুত বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনায় বসে গণভোটের রায় কার্যকরের স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না করে, তবে আগামী মাসগুলোতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত ও সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে চারটি মৌলিক প্রশ্নে ভোট দেন ভোটাররা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ