নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে টাইব্রেকারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা দলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে দামুড়হুদা উপজেলা দল। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই একটি করে গোল করায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-১ গোলে সদরকে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দামুড়হুদা।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। মাঠজুড়ে বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। একের পর এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের খেলায় দুই দলই প্রতিপক্ষের জালে একটি করে বল পাঠাতে সক্ষম হয়। সমতায় থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে জয়ী দল নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দামুড়হুদার খেলোয়াড়েরা একের পর এক সফল শট নিলেও চুয়াডাঙ্গা সদরের খেলোয়াড়েরা চাপ সামলাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে জয় পায় দামুড়হুদা উপজেলা দল। দামুড়হুদার জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক সাইমুন হাসান। ম্যাচজুড়ে তার দুর্দান্ত গোলকিপিং পারফরম্যান্স দর্শকদের নজর কাড়ে। তার নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করা হয়। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার তুলে দেয়া হয় দামুড়হুদা উপজেলা দলের গোলরক্ষক সাইমুন হাসানের হাতে। এছাড়া প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা দলের ইব্রাহিমকেও পুরস্কৃত করা হয়।
খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আরডিসি আসিফ মমতাজ, এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদ, দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ হায়দার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এ.এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি শেফালী খাতুন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুল হক, পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মাঠে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সাবেক ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন, সরোয়ার হোসেন জর্দার মধু, রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা, নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতী গোলরক্ষক রবিউল মল্লিক, আইয়ুব হোসেন, শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার, টিপু সুলতান, স্পোর্টিং ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আশাবুল হক এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ইমরান মহলদার রিন্টুসহ ক্রীড়াঙ্গনের সাবেক ও বর্তমান সংগঠকেরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ২০ সেপ্টেম্বর। ফলে সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর লড়াই ঘিরে এখন থেকেই ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। ম্যাচটি পরিচালনা করেন শফিকুল নবী রিয়ান, জুয়েল রানা, লিটা হোসেন ও হাফিজুর রহমান। ম্যাচ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন সাবেক ফুটবলার আইয়ুব হোসেন। ধারাবিবরণী প্রচার করেন ইসলাম রকিব ও শামীম আহমেদ খান।


