আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজরাজনীতিলংমার্চের ইতিহাস হেঁটে কর্মসূচি পালন ,১১ দল করছে গাড়ি মার্চ: সংস্কৃতিমন্ত্রী 

লংমার্চের ইতিহাস হেঁটে কর্মসূচি পালন ,১১ দল করছে গাড়ি মার্চ: সংস্কৃতিমন্ত্রী 




নিজস্ব প্রতিবেদক:

লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়ি মার্চ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, লংমার্চের ইতিহাস হচ্ছে হেঁটে কর্মসূচি পালন করা। কিন্তু ১১ দলীয় ঐক্যজোট যে কর্মসূচি পালন করছে, সেটিকে গাড়ি মার্চ বলা যায়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে, মানুষ তা শুনবে। এ নিয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। দেশে যাদের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে, তারা রাজনীতি করুক। গতকাল শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
চুয়াডাঙ্গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, তাকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার অর্থ হলো ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে দেয়া’। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার চেয়ে ভালো জানেন। তিনি এখানে মাত্র একদিন এসেছেন। তাকে যা দেখানো হবে, তিনি তা-ই বুঝবেন। তবে এর বাইরে কোনো বিষয় থাকলে তাকে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, এ জেলায় মাদক, অনলাইন জুয়া, চোরাচালান ও বাল্যবিবাহসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এছাড়া এখানে আত্মহত্যার প্রবণতাও বেশি। বিশেষ করে আবহাওয়া ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় এর জন্য দায়ী। এসব সমস্যা মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নজরুল বর্ষ ঘোষণার পর থেকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে সরকার। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিল্প-সংস্কৃতিকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫১টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চায় সরকার। বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো ও সমৃদ্ধ উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অন্য দেশের মানুষের কাছে এ দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এবার থেকে সারা দেশে বাউল উৎসব আয়োজন করা হবে। লোকসংগীত, ভাটিয়ালি ও নৌকাবাইচকে মন্ত্রণালয়ের ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দাড়িয়াবান্দা, হাডুডু, কাবাডি ও লাঠিখেলার মতো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোও নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংস্কৃতির বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর সীমাহীন অনুপ্রেরণা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তৃণমূল পর্যায় থেকে শিল্পী খুঁজে আনার কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকা, স্কুল, মাদরাসা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নাটক, অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ ও অঙ্কনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিভা অন্বেষণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। চুয়াডাঙ্গাতেও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। সভায় জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সংস্কৃতিকর্মীরা জেলার সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার এবং স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন। পরে জেলার সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র ও কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন। এছাড়া জেলা জাসাসের সভাপতি শহীদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিবসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন অরিন্দম, উদীচী, সংলাপ, কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদ ও আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে বিকেলে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ