কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দামুড়হুদা উপজেলার ভৈরব নদে অবৈধভাবে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৮০০ মিটার চায়না দুয়ারি ও ম্যাজিক জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দ করা জালের সংখ্যা ৪০টি। পরে এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হেমায়েতপুর এলাকায় ভৈরব নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নদ ভৈরবে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও ম্যাজিক জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছিলেন। এসব জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে নদীর মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নদ থেকে ৪০টি জাল উদ্ধার করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ মিটার। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দামুড়হুদা উপজেলার ভৈরব নদ একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়। এই নদে কিছু অসাধু ব্যক্তি চায়না ম্যাজিক জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ জালগুলো উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নদ-নদীতে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নদে নিয়মিত নজরদারি এবং অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।


