আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজশিক্ষাস্কুলে না এসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, শ্রেণিকক্ষেই প্রাইভেট পড়ান শিক্ষক

চুয়াডাঙ্গার শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: 

স্কুলে না এসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, শ্রেণিকক্ষেই প্রাইভেট পড়ান শিক্ষক




দর্শনা অফিস:

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। স্কুলে না এসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, স্বাক্ষরের অসংগতি এবং বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের সহযোগিতায় সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুন ও শিক্ষক জামিল হোসেন এসব অনিয়ম করে আসছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
গতকাল রবিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং হাজিরা খাতার স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগের বিভিন্ন দিক সামনে আসে। অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অডিও-ভিডিওতে ধারণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব যাদের, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধেই এখন দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুনের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন দাবি করেন, রবিবার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত রয়েছেন। তবে সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুন সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর জরুরি কাজে বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ বক্তব্যের সঙ্গে অসংগতি পাওয়া যায়। সকালে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়তে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, রবিবার সকাল থেকে তাদের শিক্ষিকা শিরিনা খাতুন বিদ্যালয়ে আসেননি।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের পর প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন তার আগের বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, শিরিনা খাতুন রবিবার নয়, এর আগেই বৃহস্পতিবার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে গিয়েছিলেন। তবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও আগাম স্বাক্ষর করার বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, সে প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে নিজের ভুল হয়েছে স্বীকার করে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান প্রধান শিক্ষক।
এদিকে সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুনের বক্তব্যেও দেখা যায় ভিন্নতা। তিনি দাবি করেন, রবিবার সকালেই বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এবং প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে জরুরি কাজে বাড়িতে এসেছেন। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেখানে শিরিনা, নামের স্বাক্ষরে স্পষ্টতই দুই ধরনের লেখার অসংগতি দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিরিনা খাতুন বলেন, অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে স্বাক্ষর করার কারণে লেখায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তিনি প্রধান শিক্ষককে জানিয়েই বিদ্যালয়ে এসেছিলেন বলেও দাবি করেন।
তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষকের প্রথম বক্তব্য, পরবর্তী বক্তব্য এবং সহকারী শিক্ষিকার দাবির মধ্যে অসংগতি থাকায় হাজিরা খাতার স্বাক্ষর ও শিক্ষকের প্রকৃত উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুসন্ধানকালে আরেকটি অভিযোগ সামনে আসে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক ৩০০ টাকা করে নিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই এসব শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানো হয়। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের নিজস্ব শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পাঠদান করছেন ওই শিক্ষক।
এ বিষয়ে শিক্ষক জামিল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে স্কুলের বেতনে চলা খুব মুশকিল। তাই স্কুলের ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট পড়াই। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষার মান বাড়ছে, আমারও কিছু সুবিধা হয়। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের নিয়ম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়ম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের সহযোগিতায় সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুন ও শিক্ষক জামিল হোসেন নানা অনিয়ম করে আসছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পাঠদান তদারকির দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের ওপর থাকলেও তার সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম কীভাবে চলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয় এবং প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আমার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। কেউ যদি অনিয়ম করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। হেড স্যারের কোনো সমস্যা আছে কি না, তা দেখতে হবে। তা না হলে একজন শিক্ষিকা ও শিক্ষক কীভাবে এ ধরনের কাজ করতে পারেন? অফিসিয়াল প্রসেসের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা তাসলিমা নাসরিন বলেন, স্কুলের মধ্যে প্রাইভেট পড়ানো নিষেধ। স্কুলে না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা আইনগতভাবে চরম অপরাধ। স্কুলে শিক্ষক উপস্থিত হয়েছেন কি না, প্রথমত প্রধান শিক্ষক তা মনিটরিং করেন। এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তদারকি করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক যদি সহযোগিতা করে এ ধরনের অন্যায় কাজ করেন, সেটিও তদন্ত করা হবে। তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন শিক্ষা বিভাগের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ