নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে মাদক সেবন ও মাদকদ্রব্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের কাছ থেকে গাঁজা, চোলাই মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অন্য একজনকে মাদক সেবনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আমলি আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকেই বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি জেলা কার্যালয়।
অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা গ্রামের আসান আলীর ছেলে সাহেদকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। এর আগে রবিবার সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগর থানা এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান চালায় ডিএনসি। ওই অভিযানে গাঁজা, চোলাই মদ ও ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের মধ্যে দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দুজনকে আমলি আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুর মাঝেরপাড়া গ্রামের মৃত আনছার আলী মন্ডলের ছেলে বদর উদ্দিন মন্ডলকে (৬০) ৫০০ মিলিলিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই উপজেলার দৌলতগঞ্জপাড়া গ্রামের মৃত আকবর আলী মন্ডলের ছেলে হাফিজুর রহমানকে (৪৯) পাঁচ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে রুবেলকে (১৮) পাঁচ গ্রাম গাঁজাসহ এবং শহরের হকপাড়ার আবেদ আলীর ছেলে আশরাফুলকে (২৪) দুই পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত রুবেলকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং আশরাফুলকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আট হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
ডিএনসি চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবনকারী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও চিরুনি অভিযান চালানো হবে।


