আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজআইন আদালতদামুড়হুদায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়েছে তরুণী

দামুড়হুদায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়েছে তরুণী




কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরে এক তরুণীর সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুমিল্লার এক ব্যবসায়ীর। বিয়ের আশ্বাসে ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তরুণীর বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলে প্রতারণার অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেছেন ওই ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, তরুণীর মা দাবি করেছেন, তার মেয়েকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করার অভিযোগে তারা দামুড়হুদা মডেল থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত তরুণী দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দশমীপাড়ার বাসিন্দা। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর নাম রেজাউল করিম সবুজ। তিনি কুমিল্লা জেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের হাজী এলাকার মৃত নুর আহাম্মদ আলীর ছেলে। রেজাউল করিম সবুজের অভিযোগ, ২০২১ সালে মুঠোফোনে ভুল নম্বরে কল আসার সূত্র ধরে এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর দুজনের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের প্রায় এক বছর পর তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে কুমিল্লা থেকে চুয়াডাঙ্গায় আসেন সবুজ। অন্যদিকে, দামুড়হুদা থেকে দেখা করতে আসেন তরুণী। ওই দিন তারা প্রায় ছয় ঘণ্টা একসঙ্গে সময় কাটান। পরে দুজনই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। সবুজের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে তাদের মধ্যে মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্তও নেন। তবে এর কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে তরুণী তার কাছে টাকা চাইতে শুরু করেন। সবুজের অভিযোগ, প্রথম দিকে ওই তরুণী নিজের ছোট একটি অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়ে টাকার প্রয়োজনের কথা বলেন। এরপর কখনো নিজের, কখনো পরিবারের সদস্যদের নানা সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে টাকা নিতে থাকেন। বিকাশের মাধ্যমে একাধিক নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই টাকা ধার হিসেবে নেয়া হচ্ছে এবং তরুণীর বাবার তিন শতক জমি বিক্রি হলে সব টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।
ব্যবসায়ী সবুজের দাবি, তার কথায় বিশ্বাস করে তিনি কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠিয়েছেন। কখনো দু-এক দিন পরপর, কখনো প্রয়োজনের কথা জানিয়ে হঠাৎ করেই টাকা চাওয়া হতো। ভালোবাসার সম্পর্কের কারণে তিনি এসব বিষয়ে সন্দেহ করেননি। বরং ভবিষ্যতে বিয়ে এবং সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হলে তরুণীর কাছে আগের টাকা থেকে কিছু ফেরত চান সবুজ। তখন ওই তরুণী টাকা দিতে পারবেন না বলে জানান। পরবর্তী সময়ে আবার টাকা চাইলে সে তার কাছ থেকে কোনো টাকাই নেননি বলে দাবি করেন। এতে হতবাক হয়ে যান সবুজ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মানুষটির এমন আচরণে তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করেন। সবুজের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে তরুণী একপর্যায়ে তাকে নিজের বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর তিনি বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে অন্য পুরুষের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মহেশপুরের এক ব্যক্তির সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সবুজ আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অর্থ হারানোর ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে হতাশা থেকে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও দাবি তার। শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন সবুজ।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার না করলেও টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তরুণী। তার ভাষ্য, সবুজের সঙ্গে তার খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। সেই সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে সবুজ তাকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। তবে প্রতিবারই অল্প অল্প করে টাকা পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে কত টাকা নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
ওই তরুণী মা জানান, তার মেয়ের সঙ্গে কুমিল্লার রেজাউল করিম সবুজের মুঠোফোনে ভুল নম্বরে পরিচয় হয়েছিল। এরপর দুজনের মধ্যে নিয়মিত কথা হতো। মেয়ের হাতখরচের জন্য সবুজ কিছু টাকা দিতেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে কত টাকা দিয়েছেন, তা তার জানা নেই। সবুজ বারবার ফোন করে বিরক্ত করছেনÑএমন অভিযোগে তিনি একটি মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করে দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসু বলেন, তরুণীর মা একটি মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তরুণীর পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে সবুজের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তার কাছে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সবুজ আদালতে মামলাও করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ