আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগকম্বোডিয়ায় পড়ে আছে আছিফের মরদেহ, ব্যাকুল আকুতি মা-বাবার

কম্বোডিয়ায় পড়ে আছে আছিফের মরদেহ, ব্যাকুল আকুতি মা-বাবার




জীবননগর অফিস:

সংসারের অভাব-অনটন দূর করে মা-বাবার মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল ২৮ বছরের যুবক আছিফ খানের। সেই স্বপ্ন বুকে চেপে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে দেশ ছেড়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কর্চাডাঙ্গা লাইনপাড়ার সন্তান আছিফ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ লাশে পরিণত হয়েছে হাজার মাইল দূরের দেশ কম্বোডিয়ায়। সেখানকার একটি হাসপাতালে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন তিনি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আছিফের গ্রামের বাড়ি। শেষবারের মতো সন্তানের নিথর মুখটি একটু দেখতে মা-বাবা এখন প্রহর গুনছেন আকুল অপেক্ষায়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় দালাল খলিলের সহযোগী আদম ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের মাধ্যমে ভালো কাজের আশ্বাস পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমান আছিফ। প্রথমে মরক্কো পাঠানোর কথা থাকলেও তাকে শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয় কম্বোডিয়ায়। তবে যে কাজের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সেখানে পৌঁছানোর পর সেই কাজ দেয়া হয়নি। বিদেশে যাওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথায় কর্মস্থলে একটি ইলেকট্রনিক্সের কাজ করার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আছিফ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কম্বোডিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান এই যুবক। ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই যেন স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। বাবা আলী মোল্লা ও মা আছিয়া বেগম সন্তানের শোকে পথচেয়ে বসে আছেন। একমাত্র ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে ঢাকায় ছুটে গেছেন বাবা আলী মোল্লা, সম্পন্ন করেছেন সরকারি যাবতীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতাও। লাশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস মিললেও দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দেশে পৌঁছায়নি আছিফের মরদেহ।
অশ্রুসজল চোখে সন্তানহারা মা আছিয়া বেগম বলেন, আমাদের ছেলে তো আর কোনোদিন বেঁচে ফিরবে না, আল্লাহ আমাদের সেই সুখ দেননি। কিন্তু শেষবারের মতো কি আমরা আমাদের বাবাটার মুখটা একটু দেখতে পাব না? সরকারের কাছে আমাদের একটাই মিনতি, আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দেয়া হয়।
ছেলের নিথর দেহটুকু শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় এই মা-বাবা। পরিবারের আশা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপে দ্রুতই দেশে ফিরবে আছিফের মরদেহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ