নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। জেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আয়োজন ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় পতাকা ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং ক্রীড়া শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ প্রচণ্ড রোদ। কিন্তু আমাদের রোদে পুড়েই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আমাদের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। কারণ সূর্যের আলোর ভিটামিন ডি আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। চুয়াডাঙ্গার মাঠগুলোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চুয়াডাঙ্গাবাসী অনেক সৌভাগ্যবান। আমাদের চমৎকার চমৎকার সব মাঠ রয়েছে। তাই এসব মাঠে এসে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হতে হবে। তোমাদের জন্যই এসব আয়োজন করা হচ্ছে। তোমরা মাঠে এসো, খেলাধুলা করো। এসব গুণাবলির মাধ্যমে তোমরা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করো। খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে নেয়ার পরামর্শ দেন। হার-জিতকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করে লুৎফুন নাহার বলেন, হার-জিতÑএ দুটো নিয়েই আমাদের জীবন। আমরা জীবনে অনেক ক্ষেত্রে জিতব, আবার অনেক ক্ষেত্রে হেরেও যাব। তবে এই হারকে হজম করে কেন হারলাম, তা শনাক্ত করতে হবে। যে জায়গাগুলোতে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো পূরণ করতে হবে। তবেই আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারব। আমাদের ব্যর্থতাই সফলতার পথ দেখাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে টাউন ফুটবল মাঠে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য। মাঠে খেলাধুলার পাশাপাশি সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয় তারা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি, চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ জান্নাত আলী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিকাইল হোসেন, সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল আহমেদ, ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা, আদর্শ বালক উচ্চবিদ্যালয়ের নূর হোসেন এবং এম এ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও জোরদার হবে বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।


