সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন জোটের নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। এ কর্মসূচিতে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী ছাত্রশিবির ও খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
যাত্রা শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ ও সেক্রেটারি হাফেজ মাসুম বিল্লাহ। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শরিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা লংমার্চে যোগ দিতে রওনা হন।
লংমার্চে অংশ নিয়ে বক্তব্যে জোটের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদ সদস্য। তারা বলেন, গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা, দুর্নীতি ও দখলদারি বন্ধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দাবিগুলো মেনে নেয়া না হলে পরবর্তী মহাসমাবেশ থেকে এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল তার বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পত্তি নয়, এসব সম্পদের প্রকৃত মালিক জনগণ। তাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের স্বার্থেই সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে হবে। সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের উত্থাপিত সাত দফা দাবি সরকার মেনে না নিলে আগামী মহাসমাবেশ থেকে এক দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার দেশের রাজনীতিবিদদের কবে আক্কেল হবে, তা আমার বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। রুহুল আমিন আরও বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সাত দফা দাবি মেনে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এক দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
১১ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে সাতটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑগণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন ও আইনি প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার, হত্যা, সহিংসতা, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সংঘাত, ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং বাজারের কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, সরকারি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ দখলদারি বন্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।


