আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজশিক্ষামেহেরপুরের শিক্ষাঙ্গনে হতাশার চিত্র, পাস করেছে অর্ধেকেরও কম

মেহেরপুরের শিক্ষাঙ্গনে হতাশার চিত্র, পাস করেছে অর্ধেকেরও কম




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে মেহেরপুর জেলায় দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। জেলার ১৮টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩ হাজার ৫৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ হাজার ৪৫৭ জন। সে হিসাবে জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে একদিকে যেমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে, অন্যদিকে কয়েকটি কলেজে পাসের হার নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। এমনকি একটি কলেজের দুই পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
জেলার সামগ্রিক ফলাফল হতাশাজনক হলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে গাংনীর সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১২ জন জিপিএ-৫ সহ মোট ৮৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। জেলার কলেজগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পাসের হার। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৭৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই জেলার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এসেছে।
কলেজভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৭৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০ জন জিপিএ-৫সহ ৪৩৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন জিপিএ-৫সহ ৩৩ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৫ শতাংশ। মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ৫১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৪০ জন। পাসের হার ৪৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গাংনী মহিলা কলেজ থেকে ২৮৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ১২৯ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গাংনী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন জিপিএ-৫সহ ৩৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ। গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ৪০৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন জিপিএ-৫সহ ১৫০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফলাফল আরও পিছিয়ে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন জিপিএ-৫সহ ৭৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ। মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০৫ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বামুন্দি নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। মহাজনপুর কলেজ থেকে ৫৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জাদুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন জিপিএ-৫সহ ১৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ২৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। তেরাইল কলেজ থেকে ৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। করমদি কলেজ থেকে ১২৫ জনের মধ্যে ২২ জন পাস করেছে, পাসের হার ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। কাজিপুর কলেজ থেকে ১৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। আরও খারাপ ফল করেছে এআরবি কলেজ ও বিএন কলেজ। এআরবি কলেজ থেকে ৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৯ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিএন কলেজ থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। জেলার সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে গাংনীর মড়কা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র দুজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। ফলে কলেজটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
সামগ্রিক ফলাফলে মেহেরপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সাফল্য প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে অধিকাংশ কলেজের পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকা এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশেরও কম হওয়া শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এই হতাশার মধ্যেও সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ পাসের হার এবং ১২টি জিপিএ-৫ অর্জন জেলার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ