আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজআইন আদালতঅনৈতিক সম্পর্ক ও টাকা নিয়ে বিরোধ, গ্রেপ্তার হেলালের ফেসবুকে স্বীকারোক্তি

আলমডাঙ্গার ওসমানপুরে চয়ন হত্যার ঘটনায় মামলাঃ 

অনৈতিক সম্পর্ক ও টাকা নিয়ে বিরোধ, গ্রেপ্তার হেলালের ফেসবুকে স্বীকারোক্তি




আলমডাঙ্গা অফিস:

আলমডাঙ্গায় চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতা চয়ন আলীকে (৪৯) বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হেলাল মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার হারদী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর আসামি হেলালের স্ত্রী লাবনী খাতুন এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। পুলিশ তাকে ধরতে সব অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন অভিযুক্ত হেলাল মিয়া।
নিহত চয়ন আলীর শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আসাননগর গ্রামে। একই গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে চয়ন ছিলেন হেলালের পরিবারের ‘খালু’। আর হেলালের স্ত্রী লাবনী ছিলেন চয়নের ভাগ্নে-বউ সম্পর্কের আত্মীয়। এই পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যেই চয়ন ও লাবনীর মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সম্পর্ক এবং বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন নিহতের স্বজনরা। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে হেলাল মিয়া কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। ওই সময় তার পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে চয়ন দেখাশোনা করতেন। হেলালের স্ত্রী লাবনী বাবার বাড়ি ওসমানপুরে থাকতেন। এ সময় চয়ন ও লাবনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হলেও বিষয়টি তখন বড় কোনো বিরোধে গড়ায়নি বলে স্থানীয় কয়েকজন জানান। সম্প্রতি হেলাল দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিদেশে থাকাকালে হেলাল যে টাকা পাঠিয়েছিলেন, তার একটি অংশ চয়নের কাছে ছিল। দেশে ফিরে হেলাল ওই টাকার হিসাব চাইলে লাবনী জানান, টাকা চয়নকে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে চয়ন ও হেলালের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
গ্রেফতারের আগে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত হেলাল বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী আমি খুব লজ্জিত, আমি চয়েনকে আমার মোটরসাইকেলে করে হারদী বাজার থেকে তুলে নিয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি আমার পারিবারিক একটা সমস্যা তার সাথে আছে তাকে আমি আইনের কাছে হ্যান্ডওভার করবো বলে। আর আমার যদি কোন অন্যায় হয় আমার যদি সাজা দেয় আমি মাথা পেতে নেব। হ্যাঁ আমার বাড়িওয়ালার বিষয় নিয়ে তার সাথে শত্রুতা আছে গ্যাঞ্জাম ছিল এজন্য আমি তাকে বাড়িতে এনে দু চারটি ঘুসি মেরেছি, আমার হাতে মোটরসাইকেলের চাবি ছিল তা দিয়ে মারার পর তার চোয়ালে আঘাত লেগে কেটে যায়। পরে তাকে আমি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে তার ছেলেকে আমার বাড়িতে আসার জন্য খবর দিই। তার ছেলে আসলে তাকে বলি তোমার বাবার কাছে হারদী গ্রামে একটি বাড়ি কেনা বাবদ আট লাখ টাকা দিয়েছি সেটা সে অস্বীকার করছে। এছাড়া আমার স্ত্রীর সাথে অনেক ঘটনা আছে যা আমি ভিডিওতে সব বলতে পারছি না। ওর ছেলে চলে যাবার পর ওকে তালা খুলে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা করলে দেখি ঘরের ভিতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে আটকানো। পরে প্রতিবেশী ৩-৪ জনের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে দেখি চয়েন আমার স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলাই ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। তার মৃত্যুর বিষয়ে আমি দোষি না, আমি আপনাদের কাছে বিচার দিলাম আপনাদের পরিবারের সাথে যদি এধরনের ঘটনা ঘটতো, যেমন আমাকে পাগল বানানোর জন্য গাছ খাওয়ানো, তেলপড়া দেয়া পরিবারে অশান্তি সৃষ্টিকরা তাহলে আপনারা কি করতেন। তার পরেও এঘটনার জন্য প্রশাসন যদি মনে করে আমি দোষী আমাকে গুলি করে মেরে দিক আমার কোন দাবি থাকবে না।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হেলাল ফোন করে চয়নকে ওসমানপুর নতুনপাড়ায় তার বাড়িতে যেতে বলেন। ফোন পেয়ে চয়ন সেখানে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চয়নের মুঠোফোন থেকে তার ছেলে মারুফের কাছে ফোন করা হয়। বলা হয়, চয়নের কাছে হেলাল টাকা পান। এ সময় মারুফকে স্ট্যাম্প নিয়ে হেলালের বাড়িতে যেতে বলা হয়। মারুফ স্ট্যাম্প কিনে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই দুপুর ১টার দিকে হেলাল ফোন করে জানান, চয়ন তার ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হারদী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে চয়নকে মৃত অবস্থায় পান। এজাহারে বলা হয়েছে, তার বাঁ পাশে থুতনির নিচে রক্তাক্ত জখম এবং পিঠ ও গলায় হালকা কালশিরে দাগ ছিল। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চয়নকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে একটি ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করছে। চয়নের স্ত্রী মাজেদা খাতুন মঙ্গলবার রাতে আলমডাঙ্গা থানায় হেলাল ও তার স্ত্রী লাবনীসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনায় এবং আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হেলালের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে গতকাল বুধবার ভোরে হারদী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, চয়ন হত্যার মামলায় হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কী-না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পলাতক লাবনীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ভাষ্য, চয়নের সঙ্গে লাবনীর কথিত সম্পর্ক, বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা, টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, চয়নকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নেয়া এবং তার মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর অভিযোগÑসব দিকই তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই চয়নের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ