দর্শনা অফিস:
দর্শনায় রেলইয়ার্ড থেকে আমদানিকারকদের পণ্য চুরির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কাঠ ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন, তার বাবা-চাচাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় এজাহার দিয়েছেন আহত ব্যবসায়ীর ছেলে। আহত ব্যবসায়ী ওয়াসিম (৪৮) বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগরে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার আগের রাতে ওয়াসিমকে দর্শনা রেলইয়ার্ড থেকে আমদানিকারকদের পণ্য চুরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিযুক্তদের কয়েকজন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এর পরদিন বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়াসিমের ছেলে হাফিজুলের দায়ের করা এজাহারে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ইন্তাজ (৪৮), হুমায়ুন (৪০), রুবেল (৩০), মনিরুল হোসেন ওরফে মইন্না (৪২), সোবহান (৪২), লিটন ওরফে মুলকো (২৪) ও ইমন (২৬)। এজাহারে ইমনকে নিষিদ্ধ ঘোষিত দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের সবার বাড়ি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগরে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হুমায়ুন, রুবেল ও ইমন ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে দর্শনা রেলইয়ার্ড থেকে আমদানিকারকদের পণ্য চুরির প্রস্তাব দেন। ওয়াসিম সেই প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান তারা। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওয়াসিম। পথে হুমায়ুনের দোকানের সামনে পৌঁছালে তার গতিরোধ করা হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেয়া সাতজন তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীদের হাতে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, জিআই পাইপ, ধারালো দা, হাসুয়া ও চাকু ছিল। রুবেল তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ওয়াসিমের গলায় কোপ দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে লিটন তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর রুবেল দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিতে গেলে তা ওয়াসিমের বাঁ হাঁটুতে লাগে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে হুমায়ুন দা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়ার চেষ্টা করলে তা ঠেকাতে গিয়ে ওয়াসিমের বাঁ হাতের কবজিতে গুরুতর আঘাত লাগে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, এতে তার কবজির তিনটি হাড় কেটে টুকরা হয়ে যায়। এছাড়া ইন্তাজের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে ওয়াসিমের অণ্ডকোষে কাটা জখম হয়। ইমনের লোহার রডের আঘাতে তার ঘাড়ের পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে। অন্য আসামিরাও বাঁশের লাঠি, জিআই পাইপ ও কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওয়াসিম অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে চলে যান বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা এক ভ্যানচালক তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই ভর্তি রয়েছেন তিনি। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দর্শনা রেলইয়ার্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য। তাদের কথিত চুরির কারণে রেলইয়ার্ডে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও অনেকটা কমে গেছে বলে বাদী দাবি করেছেন। এছাড়া হুমায়ুনের দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাদী হাফিজুল এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার পর আহত বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, হাফিজুল নামে একজন বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।


