আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজসাহিত্যচুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন

চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন




নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, প্রেম, বিদ্রোহ ও সৃষ্টিশীলতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চুয়াডাঙ্গায় চলছে সাত দিনব্যাপী নজরুল উৎসব। উৎসবের পঞ্চম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চ। কবির জীবনদর্শন ও কালজয়ী সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান দর্শক-শ্রোতারা। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাজী নজরুল ইসলামের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘রিক্তের বেদন’ মঞ্চায়ন। ‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের পরিবেশনায় কবির সাহিত্য ও দর্শনের নানা দিক উঠে আসছে।
গতকাল বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর। সমাপনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, সমাপনী দিনে চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পীদের সক্ষমতা তুলে ধরতে হবে। এ জন্য জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতি তিনি সেরা পরিবেশনা উপহার দেয়ার আহ্বান জানান। শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে জেলার শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
আজ শুক্রবার উৎসবের ষষ্ঠ দিনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাট্য পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। সাহিত্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা ও অনির্বাণ, দর্শনার আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চুয়াডাঙ্গা জেলা সংসদের পরিবেশনায় কবির ‘মানুষ’ কবিতা অবলম্বনে একটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় থাকবেন আদিল হোসেন। কবিতাটিতে মানুষের মর্যাদা, সাম্য ও মানবিকতার যে বার্তা উঠে এসেছে, নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ ‘রিক্তের বেদন’ নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন বজলুর রহমান জোয়ার্দ্দার। নির্দেশনায় ছিলেন হিরন-উর-রশিদ শান্ত। নাটকটি প্রযোজনা করেছে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন দেলোয়ার হোসেন বাপ্পী, সুমিতা দে, জান্নাতুল নাইমা রিপা, স্বস্তিকা হালদার, মজিবুল হক সোনা, জাহিদুল ইসলাম জনি, মনিরুজ্জামান মানিক, মেহেদী হাসান জীবন, মুছাব আলী, তানজিল, আইয়ুব হোসেন ও সাবিনা ইয়াসমিন চম্পাসহ অন্য শিল্পীরা। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন শামীম সাগর। আলো প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন হাসান আলী। শব্দ প্রক্ষেপণ ও আবহ সংগীতে ছিলেন হিরন-উর-রশিদ শান্ত এবং মেকআপে ছিলেন আব্দুস সালাম সৈকত। অভিনয়শিল্পী ও নেপথ্যকর্মীদের সমন্বয়ে মঞ্চায়িত নাটকটি ছিল পঞ্চম দিনের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, ডিইজি অ্যাডভোকেট হেমায়েতউল্লাহ বেল্টু, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম শাহজাহান মুকুল, চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুছাইন মালিক এবং পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি পরিষদের পরিচালক মনোয়ারা খুশি।
সাত দিনব্যাপী এ উৎসবে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে অংশ নিচ্ছে। সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কবির সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন তুলে ধরা হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন। সমাপনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মী, শিল্পী ও দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এ উৎসব চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ