আসমানখালী প্রতিনিধি:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ঋণের বোঝা ও পারিবারিক সংকটে আত্মহত্যা করা কৃষক ইকরামুল হক মোহনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারটির দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সংগঠনের মানবাধিকার কর্মীরা। গত বুধবার সংগঠনের পক্ষে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, কৃষক ইকরামুল হক মোহন (৩৫) মেরুদণ্ডের হাড়ক্ষয়জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে ভারী কাজ ও দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে গিয়ে স্থানীয় একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে অসুস্থতার কারণে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঋণের চাপ ও পারিবারিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করলে গত বছর মোহন আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্যকে হারিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে।
পরিবারটির এমন দুর্দশার খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল-আমিন হোসেন পরশের নেতৃত্বে মানবাধিকার কর্মীরা বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী মোঃ চঞ্চল হোসেন, শামীম রেজা ও হুসাইন আহমেদ।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল-আমিন হোসেন পরশ বলেন, পরিবারটি বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। পরিবারের বড় ছেলের লেখাপড়ার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি, যাতে অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে না যায়। তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের সবার মানবিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এ ধরনের অসহায় পরিবারের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
এদিকে, পরিবারের তিন সন্তানের চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার দাতা সদস্য হুসাইন আহমেদ। ভবিষ্যতেও পরিবারটির প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের সদস্যরা। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।


