আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রানা আফান্দিকে মারধর ও তার ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বেলগাছি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ভুক্তভোগী রানা আফান্দি স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক। তার অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছিলেন তিনি। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে তাকে মুঠোফোনে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে বেলগাছি বাজারে তাকে একা পেয়ে কয়েকজন পথরোধ করে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বেলগাছি বাজারে যান সাংবাদিক রানা আফান্দি। এ সময় রাজুর নেতৃত্বে কালাম নামের এক ব্যক্তির ভাই ওল্টু এবং পোয়ামারী গ্রামের নাজমুলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়। মুঠোফোনটি ফেরত নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে আবারও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিক রানা আফান্দির দাবি, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এসব সংবাদ প্রকাশের পর মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তার প্রকাশিত সংবাদগুলোর পর মাদকসংক্রান্ত মামলায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, মূল ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরাতে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে কাউকে হুমকি বা হামলার শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় সাংবাদিক রানা আফান্দি বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক রানা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


