আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজজাতীয়গ্রামে গ্রামে আবারও ফিরছে গ্রাম সরকার, নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত

গ্রামে গ্রামে আবারও ফিরছে গ্রাম সরকার, নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত




ঢাকা অফিস:

দেশে আবারও ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’। এজন্য ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। খসড়ায় প্রতি ওয়ার্ডে একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবকের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুবক প্রতিনিধি, পল্লী চিকিৎসক, নিকাহ রেজিস্ট্রার ও সমবায় সমিতির সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক এবং যেকোনো ধরনের জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত গ্রাম সরকার। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে খসড়ার বিষয়ে মতামতও চাওয়া হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, আইনের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার থাকবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নামের পর ওয়ার্ড নম্বরের সূচকে গ্রাম সরকারের নাম হবে। গ্রাম সরকার একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। আইনের বিধান সাপেক্ষে এর স্থাবর ও অস্থাবর উভয় ধরনের সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকবে। এই আইনের অধীন গ্রাম সরকার ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হবে। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১)-এ সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে গণ্য হবে না। গ্রাম সরকার গঠনের সময়ও খসড়ায় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সেই তারিখে গ্রাম সরকার গঠন করা হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে, ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে গ্রাম সরকার গঠন করতে হবে। আর ধারা ২৪’র অধীন গ্রাম সরকার বাতিল হলে, বাতিলাদেশ জারির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠন করতে হবে।
খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গ্রাম সরকার প্রধান হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারের উপদেষ্টা হবেন। আর সদস্য হিসেবে থাকবেন দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুইজন, একজন পুরুষ ও একজন নারী; দুইজন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক, একজন যুবক প্রতিনিধি এবং একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য (যদি থাকে)। কোনো এক বা একাধিক শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারদের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ। খসড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক, যেকোনো ধরনের জুয়াসহ অপরাধ সংঘটনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব বিষয়ে প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার দায়িত্ব থাকবে গ্রাম সরকারের। গ্রামে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগও নেবে গ্রাম সরকার। এ উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করতে পারবে তারা। তাদের লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে। গ্রামের রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে গ্রাম সরকার। চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয়াদিও পর্যালোচনা করবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রসারে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহযোগিতা করবে। পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচিসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে। মাঠপর্যায়ে এসব কর্মসূচিতে কর্মরত কর্মচারীদের কাজ সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন দেয়ার কথাও রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে গ্রাম সরকার। প্রয়োজনে নিজস্ব তত্ত্বাবধানেও ব্যবস্থা নিতে পারবে। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত থাকবে গ্রাম সরকার। এ বিষয়ে সংকট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে। গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা, মৎস্য চাষ ও পশুপালন সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে উৎসাহিত করবে। এছাড়া বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণে জনগণকে উৎসাহিত করার দায়িত্বও থাকবে। নারী, যুব, তরুণ, প্রবীণ ও শিশুসহ গ্রামীণ জনগণের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে গ্রাম সরকার। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।
গ্রাম সরকার প্রধান, উপদেষ্টা ও প্রত্যেক সদস্য দায়িত্ব নেয়ার আগে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সামনে শপথ নেবেন। গ্রাম সরকার গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে বা হারালে কেউ গ্রাম সরকারের সদস্য হতে পারবেন না। কোনো আদালত কাউকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করলেও তিনি সদস্য হতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের আঞ্চলিক এলাকার বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নিজ গ্রাম ছেড়ে গেলেও সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকবে না।
নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আদালত কর্তৃক কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে সদস্য হওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও সদস্য হওয়া যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়া বা থাকা এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকলেও সদস্য হওয়া যাবে না।
যথাযথ তদন্তের পর কোনো সদস্যকে পদ থেকে অপসারণ করা যাবে। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া গ্রাম সরকারের পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে সদস্যকে অপসারণ করা যাবে। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে বা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালেও অপসারণ করা যাবে। অসদাচরণের দায়ে দোষী হলে বা সদস্য হওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়লেও তাকে অপসারণ করা যাবে। খসড়ায় অসদাচরণ বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা নৈতিক স্খলনকে বোঝানো হয়েছে। প্রত্যেক গ্রাম সরকারের ‘গ্রাম সরকার তহবিল’ নামে একটি তহবিল থাকবে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া অর্থ এবং অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া অর্থ জমা হবে। গ্রাম সরকারের কার্যালয় ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে অথবা হাট-বাজার কিংবা গ্রোথ সেন্টার এলাকায় স্থাপন করা হবে। পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাম সরকার প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে কার্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করবে।
গ্রাম সরকারের কার্যক্রম তদন্তেরও সুযোগ রাখা হয়েছে খসড়ায়। জেলা প্রশাসক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অথবা পরিদর্শন শেষে পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা কিংবা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে গ্রাম সরকারের কার্যাবলি সাধারণভাবে বা কোনো বিশেষ বিষয়ে তদন্তের জন্য কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দিতে পারবেন। তদন্তের পর জেলা প্রশাসক যদি মনে করেন কোনো গ্রাম সরকার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বা ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ, জনস্বার্থবিরোধী কাজ করছে অথবা ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বা করছে, তাহলে গ্রাম সরকার বাতিল ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবেন। তবে এ আদেশ দেয়ার আগে গ্রাম সরকারকে এর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। গ্রাম সরকার বাতিল হলে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের গঠিত এডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারদের সমন্বয়ে এডহক কমিটি গঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আবারও গ্রাম সরকার পুনর্বহালের বিষয়ে কেউ কেউ প্রস্তাব করেন। তবে বিষয়টি পরবর্তী বৈঠকে আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য বলা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭০-এর দশকে ‘গ্রাম সরকার’ নামে একটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরে ২০০৩ সালে এ বিষয়ে আইন করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। রহিত হওয়া গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩ অনুযায়ী, একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের কথা ছিল। নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার কথা ছিল ওই আইনে। এছাড়া গ্রামের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয়াদি পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কথা ছিল ওই আইনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ