আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজসম্পাদকীয়চালু হয়েও বন্ধ ওটি, জনবল সংকটে থমকে স্বাস্থ্যসেবা

চালু হয়েও বন্ধ ওটি, জনবল সংকটে থমকে স্বাস্থ্যসেবা




উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাগুলোর একটি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকর চিকিৎসাসেবা শুধু একটি সরকারি সুবিধা নয়, বরং জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। অথচ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাম্প্রতিক চিত্র সেই প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু হলেও নিয়মিত অস্ত্রোপচার সেবা মিলছে না। চালুর পর মাত্র ছয়টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এরপর গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে ওটির কার্যক্রম। এ ঘটনা শুধু একটি হাসপাতালের জনবলসংকটের চিত্র নয়, এটি উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন কিংবা ওটি চালু করার উদ্যোগ তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই অবকাঠামো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও সহায়ক জনবল নিশ্চিত করা যায়। চিকিৎসক নেই, অ্যানেস্থেসিয়া দেয়ার ব্যবস্থা নেইÑএমন অবস্থায় একটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার কার্যত একটি বন্ধ ঘর ছাড়া আর কী? আলমডাঙ্গার মানুষের মধ্যে ওটি চালু হওয়ার খবরে স্বাভাবিকভাবেই আশার সঞ্চার হয়েছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়া গেলে জেলা শহর বা বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে হবে না, কমবে চিকিৎসাব্যয়, সময় ও ভোগান্তি। কিন্তু সেই আশার স্থায়িত্ব হয়েছে মাত্র ছয়টি অস্ত্রোপচার পর্যন্ত। এখন কোনো রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে তাকে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। শুধু ওটিই নয়, হাসপাতালটিতে এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে। কাগজে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও কার্যক্রম সচল রাখতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরও তিনজনকে রাখতে হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি জনবল কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি চিকিৎসাসেবারই অংশ। পানি সরবরাহ, টয়লেট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষ তাই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আরও উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও বিদ্যুৎ চলে গেলে সেটি চালানোর জন্য সরকারি জ্বালানি বরাদ্দ নেই। ফলে বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসাসেবা কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তা সহজেই অনুমেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেÑএটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে একটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিদ্যুৎব্যবস্থা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব অর্থের ওপর নির্ভর করতে হবে কেন, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহির্বিভাগের টিকিটের টাকা নেয়ার অভিযোগ। নির্ধারিত মূল্য সাত টাকা হলেও খুচরা টাকার অজুহাতে রোগীদের কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়া এবং অতিরিক্ত তিন টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের খুচরা টাকা নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ফি আদায়ের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয়। সাত টাকা নির্ধারিত থাকলে সাত টাকাই নিতে হবেÑএটাই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য নিয়ম। খুচরা টাকার সংকট রোগীর ওপর চাপিয়ে দেয়ার পরিবর্তে টিকিট কাউন্টারে পর্যাপ্ত খুচরা টাকার ব্যবস্থা করা উচিত। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো তাই বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। ওটি চালু করা, চিকিৎসক নিয়োগ, টেকনিশিয়ান নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি-স্যানিটেশন উন্নত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করাÑসবই একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অংশ। একটি সমস্যা সমাধান করে অন্যগুলোকে উপেক্ষা করলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, দ্রুত গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করে ওটির নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এক্স-রে টেকনিশিয়ান নিয়োগ, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিশ্চিত করা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি বরাদ্দ দিতে হবে। টিকিটের নির্ধারিত ফি আদায়ের বিষয়েও স্বচ্ছ ও রোগীবান্ধব ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে সেটিকে সচল রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আলমডাঙ্গার মানুষ দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর যে ওটি পেয়েছেন, সেটি যেন আবার তালাবদ্ধ না থাকেÑএ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মানুষের করের অর্থে নির্মিত হাসপাতাল ও স্থাপনা যদি প্রয়োজনের সময় মানুষের কাজে না আসে, তাহলে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি যেন ‘চালু হয়েছে, আবার বন্ধ’Ñএই চক্রে আটকে না থাকে; বরং নিয়মিত, নিরাপদ ও মানসম্মত অস্ত্রোপচার সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ