আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজলিড নিউজচুয়াডাঙ্গায় এইচএসসির ফলে হতাশার ছাপ, সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী

চুয়াডাঙ্গায় এইচএসসির ফলে হতাশার ছাপ, সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী




নিজস্ব প্রতিবেদক:

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), আলিম ও কারিগরি পরীক্ষার ফলাফলে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জেলার ২৪টি কলেজ, ১১টি মাদরাসা ও ৭টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠানের ৭ হাজার ৯৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৩ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৪৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। কলেজগুলোতে ৭ হাজার ১৩৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ১৫৬ জন, পাসের হার ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩৯৮ জন আলিম পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০৭ জন, পাসের হার ৫২ দশমিক ০১ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩৯৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৩০ জন, পাসের হার ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
কলেজগুলোর মধ্যে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৯১১ জনের মধ্যে ৭৭৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৮৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, কলেজগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার নিগার সিদ্দিক কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ওসমানপুর-প্রাগপুর ফাযিল মাদরাসায় ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন আন্দুলবাড়িয়া আশরাফিয়া আলিম মাদরাসায় ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার বদরগঞ্জ কলেজে ৫৫ শতাংশ। সর্বনিম্ন জীবননগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাত্র ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
কলেজগুলোর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ফলাফল সবচেয়ে ভালো। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৩১৪, মানবিক বিভাগে ৩৮৮ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২০৯ জনসহ মোট ৯১১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৭৬ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৫ জন। পাসের হার ৮৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ কলেজ থেকে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫৯ জন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৮৩, মানবিক বিভাগে ৫২২ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮ জনসহ মোট ৭৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৪৩৭ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২৯৬ জন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ জন। চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৫৯, মানবিক বিভাগে ৫০৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩ জনসহ মোট ৫৮১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৮ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪২৩ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন। চুয়াডাঙ্গা বদরগঞ্জ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪, মানবিক বিভাগে ২২৮ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জনসহ মোট ২৩৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২৯ জন, ফেল করেছেন ২০৫ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন। বড়শলুয়া নিউ মডেল কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৫, মানবিক বিভাগে ১৪৮ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬ জনসহ মোট ১৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১১৫ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন। তেতুল শেখ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৮, মানবিক বিভাগে ২৩৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ জনসহ মোট ২৮৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১৭০ জন, ফেল করেছেন ১১৯ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ জন। জীবননগর ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২২, মানবিক বিভাগে ২৯৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জনসহ মোট ৩২৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৪ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬৯ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি। জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২৭, মানবিক বিভাগে ২৫৮ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ জনসহ মোট ২৯০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১৮২ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১০৮ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭ জন। উথলী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৮, মানবিক বিভাগে ১৩৭ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩ জনসহ মোট ১৪৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪০ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১০৮ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন। আন্দুলবাড়িয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে একজন, মানবিক বিভাগে ৪০ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জনসহ মোট ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৩ জন, ফেল করেছেন ১০ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি। ওদুদু শাহ ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪, মানবিক বিভাগে ৪৪৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬ জনসহ মোট ৪৬৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১৫ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৫৪ জন। পাসের হার ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। কেউ জিপিএ-৫ পাননি। দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৩, মানবিক বিভাগে ২৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৫ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৩২ জন। পাসের হার ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি। দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৭০, মানবিক বিভাগে ৫৫৮ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৪৩ জনসহ মোট ৮৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৯৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৭৮ জন। পাসের হার ৪৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন। কার্পাসডাঙ্গা মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৩, মানবিক বিভাগে ২৫৮ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জনসহ মোট ২৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬৯ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১৯৪ জন। পাসের হার ২৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন। আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৯০, মানবিক বিভাগে ৫০১ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৩ জনসহ মোট ৭২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৬১ জন। পাসের হার ৫০ দশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮ জন। আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪, মানবিক বিভাগে ২৮৪ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০ জনসহ মোট ৩০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৫০ জন, ফেল করেছেন ২৫৮ জন। পাসের হার ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। কেউ জিপিএ-৫ পাননি। এমএস জোহা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৮, মানবিক বিভাগে ২৮৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জনসহ মোট ২৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৮ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২৬১ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি। খাসকররা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কেউ অংশ নেননি। মানবিক বিভাগে ৭৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একজনসহ মোট ৭৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১৭ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬০ জন। পাসের হার ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ। কেউ জিপিএ-৫ পাননি। ড. আফসার উদ্দীন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কেউ অংশ নেননি। মানবিক বিভাগে ৬২ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একজনসহ মোট ৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৯ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৪ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি। নিগার সিদ্দিক কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৮, মানবিক বিভাগে ১৯৫ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬ জনসহ মোট ২০৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২২ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১৮৭ জন। পাসের হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। কলেজগুলোর মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি। ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৯ ও মানবিক বিভাগে ১৪ জনসহ মোট ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে পাসের হার শতভাগ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন। হোগলডাঙ্গা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কেউ অংশ নেননি। মানবিক বিভাগে ১৪ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩ জনসহ মোট ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৭ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১০ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। কেউ জিপিএ-৫ পাননি। হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শুধু মানবিক বিভাগে ৫৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৫ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। কেউ জিপিএ-৫ পাননি। বড়বলদিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শুধু মানবিক বিভাগে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৮ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
এদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চুয়াডাঙ্গার ১১টি মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় মোট ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০৭ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১৯১ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ০১ শতাংশ। বদরগঞ্জ বাকীবিল্লাহ কামিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২৭ জন, ফেল করেছেন ১১ জন। পাসের হার ৭১ শতাংশ। এ মাদরাসা থেকে এ প্লাস পেয়েছেন ৪ জন। ওসমানপুর-প্রাগপুর ফাযিল মাদরাসা থেকে ২১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ এ প্লাস পাননি। মাদরাসাগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পাসের হার। হাসাদাহ মডেল কামিল মাদরাসা থেকে ৫০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৪ জন, ফেল করেছেন ১৬ জন। পাসের হার ৬৮ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছেন ৩ জন। চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসা থেকে ৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩১ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। পাসের হার ৬৬ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছেন একজন। আলমডাঙ্গা সিদ্দীকিয়া আলিম মাদরাসা থেকে ৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কেউ এ প্লাস পাননি। দর্শনা ডিএস ফাযিল মাদরাসা থেকে ৩৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৯ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ২২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ এ প্লাস পাননি। নওলামারি আলিম মাদরাসা থেকে ২১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১১ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। কেউ এ প্লাস পাননি। কার্পাসডাঙ্গা ফাযিল মাদরাসা থেকে ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২০ জন। ফেল করেছেন ২৩ জন। পাসের হার ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছেন ২ জন। জীবননগর থানা আলিম মাদরাসা থেকে ৬৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২৪ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৫ জন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কেউ এ প্লাস পাননি। কাবিলগর আলিম মাদরাসা থেকে ২০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৫ জন। পাসের হার ২৫ শতাংশ। এ মাদরাসা থেকেও কেউ এ প্লাস পাননি। আন্দুলবাড়িয়া আশরাফিয়া আলিম মাদরাসা থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩ জন, ফেল করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মাদরাসাগুলোর মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ এ প্লাস পাননি।
অপরদিকে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চুয়াডাঙ্গার ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কারিগরি এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩০ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২৬৯ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বদরগঞ্জ কলেজ থেকে কারিগরি এইচএসসি পরীক্ষায় ৬৪ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৯ জন। পাসের হার ৫৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ এ প্লাস পাননি। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পাসের হার। ড. আফসার উদ্দীন কলেজ থেকে ৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩১ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২৭ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ এ প্লাস পাননি। এমএস জোহা কলেজ থেকে ৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২০ জন। ফেল করেছেন ৪২ জন। পাসের হার ৩২ দশমিক ২৫ শতাংশ। কেউ এ প্লাস পাননি। আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজ থেকে ৪১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২৯ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ এ প্লাস পাননি। নিগার সিদ্দিক কলেজ থেকে ১০৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৮০ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। কেউ এ প্লাস পাননি। চুয়াডাঙ্গা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৬ জন। পাসের হার ৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ এ প্লাস পাননি। জীবননগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।
জেলার ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ কলেজের পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ফলাফলের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান। কলেজ পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ৮৫ দশমিক ১৮ শতাংশ পাসের বিপরীতে নিগার সিদ্দিক কলেজে পাসের হার মাত্র ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। একইভাবে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত পাসের হার ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশ হওয়া উদ্বেগের বিষয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা অর্জনের সুযোগ থাকার কথা। সেখানে এমন ফলাফল শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ কিংবা পাসের হার দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মান নির্ধারণ করা যায় না। তবে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। শিক্ষকদের পাঠদানের মান, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রত্যাশিত ফল অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ