ঢাকা অফিস:
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার বেলা ১১টায়। এদিন একযোগে সারা দেশে এ ফল প্রকাশ করা হবে। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপরই সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে ফল জানতে পারবেন। এর মধ্যদিয়ে সাড়ে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর প্রায় আড়াই মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুত। শনিবার বেলা ১১টায় এ ফল ঘোষণা করা হবে। প্রথমে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে এ ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম। তবে সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠান থাকায় পরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফল জানা যাবে যেভাবে: শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা তিনভাবে এইচএসসির ফলাফল জানতে পারবেন। প্রথমত- পরীক্ষার্থী যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, সেই বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত- বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির দেওয়া দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে। সেগুলো হলো- বফঁনড়ধৎফৎবংঁষঃ.মড়া.নফ ও বফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে সরাসরি কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস করেও ঘরে বসে ফল জানা যাবে। সেক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে ঐঝঈ লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। উদাহরণ: ‘ঐঝঈ উঐঅ ১২৩৪৫৬ ২০২৬’ লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা চ্যালেঞ্জ যেভাবে: প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা পরদিন রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। এ আবেদন চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদনপ্রক্রিয়া ও ফি পরিশোধের বিস্তারিত নিয়ম জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন নেয়া হবে না। পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করবেন যেভাবে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://ৎবংপৎঁঃরহু.বফঁনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ) প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ড্রপডাউন থেকে শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর ফির পরিমাণ দেখা যাবে। বিকাশ, নগদ, ডিবিবিএল রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত পদ্ধতি জানতে আবেদন পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। ফি পরিশোধের পর পুনরায় আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।
আবেদনে বিষয় যুক্ত ও বাতিলের নিয়ম: ঢাকা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফি পরিশোধ করে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন করে অন্য কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো প্রত্যাহার করে নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে যেসব বিষয়ের ফি এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা যাবে না। একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিলের সুযোগ থাকবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
এইচএসসিতে নিম্নমুখী ফলের আভাস: এদিকে, এবারের ফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যেও পাসের হার কমার আভাস পাওয়া গেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার এইচএসসিতে পাসের হার নিম্নমুখী হতে পারে। তারা জানান, এবারই প্রথম এইচএসসিতে সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে (একক প্রশ্নপত্র) পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার শিক্ষার্থীরা যে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদেরও সেই একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার কমতে পারে। বেশ কয়েকজন প্রধান পরীক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেও এমন তথ্য জানা গেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, যে যেমন পরীক্ষা দিয়েছে, সে তেমন ফল করবে। তারিখ পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। এটি শিক্ষা বোর্ডের একার সিদ্ধান্ত নয়। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়, যা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তবে প্রায় ২২-২৫ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।


