নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ‘দাবা, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকস টুর্নামেন্ট-২০২৬’। দিনব্যাপী অ্যাথলেটিকসের ২৫টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলার বিভিন্ন ক্লাব, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক ক্রীড়াবিদ। দৌড়, লৌহ গোলক নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ক্ষুদে, তরুণ ও যুব অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী টাউন ফুটবল মাঠ। প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই ক্রীড়া আয়োজন।
গতকাল বুধবার সকাল নয়টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ক্রীড়া শপথের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক-উজ্জামান। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হাজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি পুলিশ পরিদর্শক হিমেল রানা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিলন বিশ্বাসসহ স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ও অন্য অতিথিরা লৌহ গোলক নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় বি এম তারিক-উজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় ক্রীড়া চর্চার জোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বেশি বেশি খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে এবং চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।
উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। চারটি ক্যাটাগরিতে অ্যাথলেটিকসের ২৫টি ইভেন্টে দিনভর চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ট্র্যাক ও ফিল্ডের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্য তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা। প্রতিটি ইভেন্ট ঘিরে মাঠে দেখা যায় উৎসাহ-উদ্দীপনা। সতীর্থদের উৎসাহ আর দর্শকদের উপস্থিতিতে ক্রীড়া আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
দিনের শেষ ভাগে ১ হাজার ৫০০ মিটারের দূরপাল্লার দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অ্যাথলেটিকসের খেলা শেষ হয়। এরপর শুরু হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবীর। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা, ফুটবল কোচ তরিকুল ইসলাম তরু, ক্রীড়া সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইকবাল হোসেন, রিমন মণ্ডল সোহাগ, সুমনসহ অন্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবীর বলেন, সুস্থতা আল্লাহ তায়ালার অশেষ নেয়ামত। আর এই সুস্থতা ও ফিটনেস অর্জনের জন্য নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সুস্থ জীবনযাপন এবং তরুণ প্রজন্মের বিকাশে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দাবা, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসের প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। বিজয়ীদের পুরস্কার গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন। অ্যাথলেটিকসের ২৫টি ইভেন্ট পরিচালনা করেন রকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, ফিরোজ উদ্দিন, আব্দুল হাই, হাফিজুর রহমান, বিলকিচ নাহার, খাজের আলী, সুজন ও রাজীব।


