ক্রীড়া প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘দাবা টুর্নামেন্ট-২০২৬’। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪৫ জন দাবাড়ু এতে অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনেই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অফিসার্স ক্লাবে দেখা গেছে ক্রীড়ামোদী ও দাবাপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন চত্বরের ঐতিহ্যবাহী অফিসার্স ক্লাবে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান। উদ্বোধনী আয়োজনে ছিল ভিন্নধর্মী আবহ। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি বিএম তারিকুজ্জামান নিজেই দাবার বোর্ডে বসে গুটি চাল দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। তার এই অংশগ্রহণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ করে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএম তারিকুজ্জামান বলেন, দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি মেধা ও মননশীলতা বিকাশের একটি দারুণ মাধ্যম। জেলার তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখতে, মাদক, মোবাইল ও জুয়া-আড্ডা থেকে দূরে রাখতে এবং মেধার মূল্যায়নে জেলা প্রশাসন এ ধরনের আয়োজনের সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলায় তরুণদের আগ্রহ বাড়লে তাদের চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বিকাশে তা ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম রেজা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাকির হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী মামুনুজ্জামান আদুন এবং সাবেক ব্যাংকার লিয়াকত আলী। অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজি।
উদ্বোধনের পর শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্বের খেলায় দাবার বোর্ডে একে অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত ছিলেন প্রতিযোগীরা। চাল দেয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা, প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য চাল বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী কৌশল নির্ধারণÑসব মিলিয়ে অফিসার্স ক্লাবে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনার আবহ। দাবার এই লড়াই দেখতে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও দাবাপ্রেমী দর্শকেরাও ভিড় করেন। খেলোয়াড়দের মনোযোগী মুখ আর বোর্ডের প্রতিটি চালকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহে দিনভর মুখর ছিল প্রতিযোগিতাস্থল। টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ইসলাম রকিব, শামসুন্নাহার শিলা, আব্দুল হাই, রিপা শাহরিয়ার, বিলকিল নাহার ও আইরিন ইসলাম।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি বলেন, জাতীয় দাবা টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য খেলোয়াড় তৈরি করা এবং চুয়াডাঙ্গার দাবা ক্লাবগুলোকে আরও সক্রিয় ও উজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, জেলার বিভিন্ন বয়সী দাবাড়ুদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গায় দাবা চর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দুই দিনের এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিভাবান দাবাড়ুদের বাছাই ও উৎসাহিত করার সুযোগও তৈরি হবে। দাবার বোর্ডে প্রতিটি চাল যেমন কৌশল, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরীক্ষা নেয়, তেমনি এমন আয়োজন জেলার ক্রীড়াঙ্গনে বুদ্ধিবৃত্তিক খেলাটির চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


